মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে, তখন মঙ্গলবার সৌদি আরব ও কুয়েতে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুটি ড্রোনের আঘাতে দূতাবাস ভবনে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে দূতাবাসে আগুন
এর এক দিন আগে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লেগেছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা, যারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করেননি। তবে উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই ড্রোনগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েলের অতিরিক্ত হামলা
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ভেতরে আরও হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
হিজবুল্লাহর পাল্টা পদক্ষেপ
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণাত্মক ড্রোন’ পাঠিয়েছে। এর ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলা, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো বন্ধ করা এবং কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কা করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংঘাত দ্রুত সীমান্ত ছাড়িয়ে আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় নিরাপত্তা সংকট ডেকে আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















