০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি, ফেব্রুয়ারিতে ৭% স্পর্শ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইউএস মেরিনস: কর্মকর্তা তোশাখানা ‘ভুয়া রসিদ’ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির জামিন, আরও ৫ মামলাতেও স্বস্তি ইরান ছাড়তে সীমান্তে হুড়োহুড়ি, তাফতান দিয়ে ফিরছেন পাকিস্তানিরা  ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নেবে না’, সিনেটে দাবি পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের রুশ তেল আমদানি ২০% এর নিচে, পশ্চিম এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে ভারত ভরিতে আবারও ৩,৩২৪ টাকা বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়াল

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ইরান অভিযান: ঝুঁকি নিয়ে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’, নাকি নতুন দীর্ঘযুদ্ধের সূচনা?

ইরানে সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি নিয়েছেন—এমনটাই মত কিছু বিশ্লেষকের। এই অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু ঘটেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে—এটি কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নাকি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সূচনা?

সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা এসেছে। কেউ বলছেন, এটি “অন্তহীন যুদ্ধে” নতুন প্রজন্মকে ঠেলে দেবে। কেউ একে অসাংবিধানিক আখ্যা দিচ্ছেন, কারণ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন, ইরান সরাসরি হুমকি ছিল না—এ অভিযান মূলত ইসরায়েলের স্বার্থে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ভেতরে খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কোথাও প্রকাশ্যে উল্লাস, কোথাও শোক—যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে এনেছে।

‘চলমান যুদ্ধের জবাব’—সমর্থকদের যুক্তি

সমর্থকদের মতে, এটি নতুন যুদ্ধ শুরু নয়; বরং ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের ধারাবাহিক বৈরিতার জবাব। মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকট, বৈরুত হামলা, ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র—এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে।

তাদের প্রশ্ন—ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে থাকে, তাহলে অপেক্ষা করা কি আরও বিপজ্জনক হতো না?

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হিসাব

ইরানকে শুধু আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নয়, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত এক অক্ষের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের ভূমিকা কিংবা চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারত্ব—এসব যুক্তি তুলে ধরে বলা হচ্ছে, তেহরান দুর্বল হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর অবস্থানও দুর্বল হবে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তেহরানের প্রভাবকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

ফলাফল অনিশ্চিত

তবে সামরিক হামলা সরকার পতন ঘটাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান শক্ত নিরাপত্তা কাঠামো ও আদর্শিক সমর্থনভিত্তি নিয়ে এখনো সংগঠিত। এমনকি সরকার না পড়লেও, কঠোর চাপের মুখে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমর্থকদের দাবি—এ পদক্ষেপ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করবে এবং কূটনীতিকে শক্তিশালী করবে। সমালোচকদের আশঙ্কা—এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একদিকে সামরিক ঝুঁকি, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্ন—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত ইতিহাসে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা নির্ধারণ করবে সময় ও পরিণতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ইরান অভিযান: ঝুঁকি নিয়ে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’, নাকি নতুন দীর্ঘযুদ্ধের সূচনা?

০৬:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানে সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি নিয়েছেন—এমনটাই মত কিছু বিশ্লেষকের। এই অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু ঘটেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে—এটি কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নাকি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সূচনা?

সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা এসেছে। কেউ বলছেন, এটি “অন্তহীন যুদ্ধে” নতুন প্রজন্মকে ঠেলে দেবে। কেউ একে অসাংবিধানিক আখ্যা দিচ্ছেন, কারণ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন, ইরান সরাসরি হুমকি ছিল না—এ অভিযান মূলত ইসরায়েলের স্বার্থে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ভেতরে খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কোথাও প্রকাশ্যে উল্লাস, কোথাও শোক—যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে এনেছে।

‘চলমান যুদ্ধের জবাব’—সমর্থকদের যুক্তি

সমর্থকদের মতে, এটি নতুন যুদ্ধ শুরু নয়; বরং ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের ধারাবাহিক বৈরিতার জবাব। মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকট, বৈরুত হামলা, ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র—এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে।

তাদের প্রশ্ন—ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে থাকে, তাহলে অপেক্ষা করা কি আরও বিপজ্জনক হতো না?

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হিসাব

ইরানকে শুধু আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নয়, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত এক অক্ষের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের ভূমিকা কিংবা চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারত্ব—এসব যুক্তি তুলে ধরে বলা হচ্ছে, তেহরান দুর্বল হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর অবস্থানও দুর্বল হবে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তেহরানের প্রভাবকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

ফলাফল অনিশ্চিত

তবে সামরিক হামলা সরকার পতন ঘটাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান শক্ত নিরাপত্তা কাঠামো ও আদর্শিক সমর্থনভিত্তি নিয়ে এখনো সংগঠিত। এমনকি সরকার না পড়লেও, কঠোর চাপের মুখে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমর্থকদের দাবি—এ পদক্ষেপ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করবে এবং কূটনীতিকে শক্তিশালী করবে। সমালোচকদের আশঙ্কা—এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একদিকে সামরিক ঝুঁকি, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্ন—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত ইতিহাসে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা নির্ধারণ করবে সময় ও পরিণতি।