রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিশেষ মেয়াদি ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে রপ্তানি খাতে তারল্য ও উৎপাদন সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া ও চালান বিলম্বিত হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদনের গতি ধরে রাখা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সমর্থন করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
বিদ্যমান সীমার বাইরে ঋণের সুযোগ
নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘সক্রিয়’ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান কার্যকরী মূলধনের সীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ পেতে পারবে। তবে ঋণের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কারখানার গত তিন মাসে পরিশোধিত গড় বেতন-ভাতার বেশি হতে পারবে না।
ঋণে বাজারভিত্তিক সুদহার প্রযোজ্য হবে। অতিরিক্ত কোনো ফি, মুনাফা বা কমিশন নেওয়া যাবে না।
এক বছরের মধ্যে পরিশোধ
ঋণ সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সমান মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘রপ্তানিমুখী’ বলতে এমন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে, যারা মোট উৎপাদনের অন্তত ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে। আর ‘সক্রিয়’ হিসেবে বিবেচিত হতে হলে নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে।
সরাসরি শ্রমিকের হিসাবে অর্থ যাবে
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঋণের অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। কারখানা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নগদ বিতরণ করা যাবে না।
যোগ্যতা নির্ধারণে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) বা বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সনদ দেবে।
এই পদক্ষেপকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শ্রমিকদের মজুরি সুরক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















