ভারত জানুয়ারি ২০২৬-এ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে ২০ শতাংশের নিচে—যা মে ২০২২-এর পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে পশ্চিম এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ১.৯৮ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে ভারত। এতে মোট আমদানিতে রাশিয়ার অংশ দাঁড়িয়েছে ১৯.৩ শতাংশে। দুই মাস আগেও এই হার ছিল ২৭.৫ শতাংশ, আর মে ২০২৫-এ ছিল প্রায় ৩৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রভাব?
ভারত সরকার বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনায় তারা আমদানির উৎস নির্ধারণ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে—ভারত যদি রুশ তেল কমায়, তাহলে শুল্ক কমানো ও বাণিজ্য চুক্তি সহজ হবে।
জানুয়ারিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগের মাসেই রাশিয়া থেকে আমদানি কমার প্রবণতা স্পষ্ট হয়।
পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি বৃদ্ধি
রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমলেও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমদানি ধরে রাখা বা বাড়ানো হয়েছে। জানুয়ারিতে ভারতের মোট তেল আমদানির ১৬.৬ শতাংশ এসেছে ইরাক থেকে—যা আগের বছরের প্রায় সমান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অংশ ছিল ১০.৪ শতাংশ। সৌদি আরবের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৫ শতাংশে—এপ্রিল ২০২৩-এর পর সর্বোচ্চ। কুয়েতের অংশ ৬.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এর পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশও বেড়ে ৬.৮ শতাংশ হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫ শতাংশ।
হরমুজ প্রণালী সংকটের ঝুঁকি
তবে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারতের আমদানি পরিকল্পনা চাপে পড়তে পারে।
বাড়তি খরচের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ছাড়মূল্যের রুশ তেল থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দামে প্রতি ১ ডলার বৃদ্ধিতে ভারতের বার্ষিক আমদানি বিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো দূরবর্তী দেশ থেকে তেল আমদানি করলে পরিবহন খরচও বেশি পড়বে।
রাশিয়া থেকে আমদানি কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে ভারত—তবে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির চাপে এই কৌশল কতটা টেকসই হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















