যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে।
এশিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারে চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত প্রযুক্তি অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এই আশঙ্কা বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন। এর ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম দ্রুত কমে গেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার পার্থক্যের কারণে হংকং ও চীনের প্রযুক্তি শেয়ার তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় পতন
বুধবার সিউলের প্রধান শেয়ার সূচক কোস্পি ১২ শতাংশের বেশি নেমে গেছে। দেশের দুই বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার যথাক্রমে ১১.৭ শতাংশ ও ৯.৬ শতাংশ কমেছে।
জাপানেও প্রযুক্তি শেয়ারে বড় ধাক্কা লেগেছে। টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩.৬ শতাংশ কমে গেছে।
হংকং ও চীনে তুলনামূলক কম প্রভাব
হংকংয়ের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সূচক হ্যাংসেং টেক সূচক ১ শতাংশ কমে গেছে, যা এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। এই সূচকে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং এবং টেনসেন্ট হোল্ডিংসসহ ৩০টি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের স্টার মার্কেট ৫০ সূচক, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ও ক্যামব্রিকন টেকনোলজিসের মতো চিপ কোম্পানি রয়েছে, সেটিও ০.৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন
নাটিক্সিস করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি বলেন, উন্নত এশিয়া এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগের কারণে বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে বাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রযুক্তি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















