মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে—এটি মোটেও বিস্ময়ের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের একজন শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনের অগ্রগতি দ্রুত এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
জাতীয় গণকংগ্রেসের অধিবেশনের আগে মন্তব্য
চীনের ১৪তম জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন চীনের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা পরিষদের সদস্য এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কিউ আন শিন প্রযুক্তি গ্রুপের চেয়ারম্যান চি শিয়াংদং। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়—প্রথম দিকে প্রায় সব নতুন প্রযুক্তিই সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
মিডিয়া প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার সময় একটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ব্যবহার করেছে। এই প্রযুক্তি হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করে, ফলে সামরিক অভিযানের সময় কম লাগে এবং আঘাত হানার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করে, যা আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে।
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন
চি শিয়াংদং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন শিল্পখাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। চীন বর্তমানে প্রযুক্তি উদ্ভাবননির্ভর জাতি গড়ার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ খুলে দিতে পারে।
তিনি বলেন, গত বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বড় আকারের মডেল। তবে সেগুলো তখনও প্রযুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। এ বছর পরিস্থিতি বদলেছে—এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাস্তব জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর।

নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে
চি শিয়াংদংয়ের মতে, বড় মডেলগুলোকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও শিল্পে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে বুদ্ধিমান এজেন্ট, শারীরিক সক্ষমতাসম্পন্ন বুদ্ধিমত্তা এবং মানবাকৃতির রোবটের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, চলতি বছরে শারীরিক সক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাস্তব ক্ষেত্রে অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এই প্রযুক্তির বাজার ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালের সম্ভাবনা
চি শিয়াংদং আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিমান যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হবে। চাকা লাগানো যন্ত্র, বহু-পায়ের যন্ত্র বা অন্যান্য ধরনের স্বয়ংক্রিয় ডিভাইস শহর ও কমিউনিটির ভেতরে এবং বাইরে কাজ করবে।
এসব যন্ত্র মানুষের জন্য নানা ধরনের সেবা প্রদান করবে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















