০৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ভোজ্যতেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেলের দাম কি ২০০ ডলারে উঠতে পারে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি মাইন বসানো নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র তেল ছাড়লেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশঙ্কা ইরানের নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন হামলা ইসরায়েলের শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্য এসএমজিসহ গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বসন্তকালীন সুদহার বাড়ানোর পূর্বাভাসে নতুন অনিশ্চয়তা এশিয়ায় পরীক্ষিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কৌশল ট্রাম্প কি ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে সত্যিই জানেন? বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চীনা বিনিয়োগের জন্যে বিদেশি বিনিয়োগ নীতি শিথিল করলো ভারত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা: প্রযুক্তি দখলের লড়াই কি বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে বিপদের দিকে?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন প্রযুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেত্রগুলোর একটি। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও একটি শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি আর নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। মূল প্রশ্ন হলো—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে। এই বিরোধের ফলাফল শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।

Pentagon formally labels Anthropic as supply-chain risk

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর চেয়েছিল, অ্যানথ্রোপিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো সরকার যেন সব বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

তার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসময় সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমান আইন এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারির জন্য এখনও প্রস্তুত নয়। ইতিমধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রমে তথ্য বিশ্লেষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

What to know about the clash between the Pentagon and Anthropic over  military's AI use

স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনও সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত আচরণ করতে পারে।

দারিও আমোদেই মনে করেন, এমন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ প্রযুক্তি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

এই বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটির সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা সামরিক ব্যবহারে বাধা দিয়ে দেশের নিরাপত্তা নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

সরকার ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে সরকারি চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।

যদি এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ নিয়ে যা ...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রত্যাশিত ক্ষমতা

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো এই প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষমতা। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে একটি দেশের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের নির্দেশ দিলে এটি নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন বিষাক্ত উপাদান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে যার উৎস শনাক্ত করা কঠিন হবে।

আরেকটি উদ্বেগ হলো, কিছু উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল এমন আচরণ দেখাচ্ছে যা বিশেষজ্ঞরা “পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা” বলে উল্লেখ করছেন। কখনও কখনও মডেলগুলো এমন নির্দেশও অমান্য করছে, যা তাদের নিজস্ব কার্যক্রম বন্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

What is Artificial Intelligence (AI) and Why People Should Learn About it -  UCF Business Incubation Program - University of Central Florida

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা সংকট

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে। ফলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতাকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই প্রতিযোগিতাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।

সামনে কি বড় বিপর্যয়?

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তার যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চলতে থাকে, তাহলে কোনো এক সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য “প্রযুক্তিগত চেরনোবিল মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করছেন—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল ব্যবহার বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, হয়তো ছোট আকারের কোনো দুর্ঘটনা বিশ্বকে সতর্ক করবে এবং তখনই বড় শক্তিগুলো নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—সম্ভবত বড় বিপদ ঘটার আগে পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ তাই এখন শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়, এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং মানবতার ভবিষ্যতের একটি বড় পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোজ্যতেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা: প্রযুক্তি দখলের লড়াই কি বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে বিপদের দিকে?

০৩:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন প্রযুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেত্রগুলোর একটি। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও একটি শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি আর নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। মূল প্রশ্ন হলো—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে। এই বিরোধের ফলাফল শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।

Pentagon formally labels Anthropic as supply-chain risk

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর চেয়েছিল, অ্যানথ্রোপিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো সরকার যেন সব বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

তার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসময় সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমান আইন এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারির জন্য এখনও প্রস্তুত নয়। ইতিমধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রমে তথ্য বিশ্লেষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

What to know about the clash between the Pentagon and Anthropic over  military's AI use

স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনও সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত আচরণ করতে পারে।

দারিও আমোদেই মনে করেন, এমন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ প্রযুক্তি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

এই বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটির সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা সামরিক ব্যবহারে বাধা দিয়ে দেশের নিরাপত্তা নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

সরকার ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে সরকারি চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।

যদি এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ নিয়ে যা ...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রত্যাশিত ক্ষমতা

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো এই প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষমতা। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে একটি দেশের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের নির্দেশ দিলে এটি নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন বিষাক্ত উপাদান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে যার উৎস শনাক্ত করা কঠিন হবে।

আরেকটি উদ্বেগ হলো, কিছু উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল এমন আচরণ দেখাচ্ছে যা বিশেষজ্ঞরা “পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা” বলে উল্লেখ করছেন। কখনও কখনও মডেলগুলো এমন নির্দেশও অমান্য করছে, যা তাদের নিজস্ব কার্যক্রম বন্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

What is Artificial Intelligence (AI) and Why People Should Learn About it -  UCF Business Incubation Program - University of Central Florida

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা সংকট

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে। ফলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতাকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই প্রতিযোগিতাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।

সামনে কি বড় বিপর্যয়?

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তার যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চলতে থাকে, তাহলে কোনো এক সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য “প্রযুক্তিগত চেরনোবিল মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করছেন—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল ব্যবহার বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, হয়তো ছোট আকারের কোনো দুর্ঘটনা বিশ্বকে সতর্ক করবে এবং তখনই বড় শক্তিগুলো নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—সম্ভবত বড় বিপদ ঘটার আগে পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ তাই এখন শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়, এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং মানবতার ভবিষ্যতের একটি বড় পরীক্ষা।