বিদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা আবারও জানিয়েছে চীন। মিয়ানমারের একটি কুখ্যাত অপরাধচক্রের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বেইজিং বলেছে, বিদেশে চীনা নাগরিকদের ক্ষতি করলে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
জাতীয় গণকংগ্রেসে প্রতিবেদন
সোমবার চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দেশের সর্বোচ্চ গণআদালতের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি জানান, গত বছর চীনা আদালত টেলিযোগাযোগ ও অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত প্রায় ৪১ হাজার ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১.২ শতাংশ বেশি।
ঝাং জুন বলেন, উত্তর মিয়ানমারে সক্রিয় ‘চার পরিবার’ নামে পরিচিত অপরাধচক্রের ১৬ জন মূল নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে অবস্থান করেও যদি কেউ চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ করে, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিযান জোরদার
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় একাধিক অপরাধচক্রের নেতাকে গ্রেপ্তার বা দমন করার খবর প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযানের মাধ্যমে বিদেশে চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা দিতে চাইছে বেইজিং।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চীনে জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী চেন ঝি। তিনি কম্বোডিয়ার প্রিন্স হোল্ডিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া ও চীনের দীর্ঘ কয়েক মাসের সহযোগিতার ফলে তাকে চীনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি
গত মাসের শুরুতে হত্যা, প্রতারণা এবং মানবপাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত একটি চক্রের ১৬ জন মূল সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করে চীন। এসব মামলার ভুক্তভোগীরা সবাই চীনা নাগরিক হলেও দণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন।
মিয়ানমার প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশ এবং সেখানে অপরাধচক্রের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা খুবই বিরল। তবু এই ঘটনার মাধ্যমে চীন স্পষ্ট করেছে যে বিদেশে অবস্থান করেও চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















