০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় উড়ছে সিঙ্গাপুরের কারখানা উৎপাদন, টানা নয় মাস প্রবৃদ্ধি নামমাত্র পরিচালক হয়ে বিপাকে সিঙ্গাপুরের নারী, চাকরি হারিয়ে এখনও ১৫ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক! নতুন শ্রবণ পরীক্ষা বুথে অপেক্ষার সময় অর্ধেক, দ্রুত সেবা পাচ্ছেন রোগীরা সিঙ্গাপুরে দুই মসজিদের সাবেক চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির প্রমাণ এয়ারএশিয়ার বড় সিদ্ধান্ত: ১ জুলাই থেকে বন্ধ সিঙ্গাপুর-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট, বাড়বে যাত্রার সময় স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে বহু কৌশল বিএনপির নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার পেন্টাগনের নতুন নীতি: যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা

ভোজ্যতেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি

রাজধানীর বাজারে এখনও ভোজ্যতেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু খোলা তেল নেই, আবার কোথাও খোলা তেল মিললেও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকটের প্রভাবে দুই ধরনের তেলের দামই বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

বাজারে সরবরাহে অস্বাভাবিকতা

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের সরবরাহে এখনও অনিয়ম রয়ে গেছে। কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া ও তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়—কোনো দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে কিন্তু খোলা তেল নেই। আবার কোথাও খোলা তেল পাওয়া গেলেও বোতলজাত তেলের সংকট রয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে বোতলজাত তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা এবং খোলা তেলের দাম পাঁচ থেকে আট টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় | NTV Online

সরকারি আশ্বাস ও বাস্তব চিত্র

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজারে দামের বৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়।

তবে বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে না। সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ লিটারের বোতলের চাহিদা বেশি

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে এই আকারের বোতলের সরবরাহ কম। সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা যদি ১০ কার্টন তেল চান, কোম্পানিগুলো সেখানে মাত্র দুই বা তিন কার্টন সরবরাহ করছে। এতে বাজারে ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

দামে বেড়েছে চাপ

এখনও বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট

সরকার নির্ধারিত হিসাবে পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের কাছ থেকে এই বোতল কিনতে পারতেন প্রায় ৯২০ থেকে ৯২৫ টাকায়। তখন তারা ভোক্তাদের কাছে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করতেন।

কিন্তু বর্তমানে ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৯৪২ থেকে ৯৫০ টাকা নিচ্ছেন। ফলে বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও আবার ৯৬০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি।

সরবরাহ কমার কারণ

কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে তেলবাহী ট্রাক বাজারে আসছে না বলে ডিলাররা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব দামের ওপর পড়ছে।

ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ, অর্ধেক পাচ্ছে ফিলিং স্টেশন

অন্যদিকে কিছু আমদানিকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ডিজেলের সংকটের কারণে তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

তেজকুনিপাড়ার সুমা জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী মো. শুভ জানান, কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় অনেক কম বোতল সরবরাহ করছে। ১০ কার্টন তেল চাইলে ডিলাররা মাত্র তিন কার্টন দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি লিটারে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের মালিক মো. রায়হান বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে পাঁচ লিটারের বোতল এখন প্রায় ৯৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এত বেশি দামে কিনে যদি অন্তত কিছু লাভ না থাকে, তাহলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা

ভোজ্যতেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি

০৪:১৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বাজারে এখনও ভোজ্যতেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু খোলা তেল নেই, আবার কোথাও খোলা তেল মিললেও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকটের প্রভাবে দুই ধরনের তেলের দামই বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

বাজারে সরবরাহে অস্বাভাবিকতা

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের সরবরাহে এখনও অনিয়ম রয়ে গেছে। কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া ও তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়—কোনো দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে কিন্তু খোলা তেল নেই। আবার কোথাও খোলা তেল পাওয়া গেলেও বোতলজাত তেলের সংকট রয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে বোতলজাত তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা এবং খোলা তেলের দাম পাঁচ থেকে আট টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় | NTV Online

সরকারি আশ্বাস ও বাস্তব চিত্র

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজারে দামের বৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়।

তবে বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে না। সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ লিটারের বোতলের চাহিদা বেশি

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে এই আকারের বোতলের সরবরাহ কম। সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা যদি ১০ কার্টন তেল চান, কোম্পানিগুলো সেখানে মাত্র দুই বা তিন কার্টন সরবরাহ করছে। এতে বাজারে ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

দামে বেড়েছে চাপ

এখনও বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট

সরকার নির্ধারিত হিসাবে পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের কাছ থেকে এই বোতল কিনতে পারতেন প্রায় ৯২০ থেকে ৯২৫ টাকায়। তখন তারা ভোক্তাদের কাছে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করতেন।

কিন্তু বর্তমানে ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৯৪২ থেকে ৯৫০ টাকা নিচ্ছেন। ফলে বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও আবার ৯৬০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি।

সরবরাহ কমার কারণ

কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে তেলবাহী ট্রাক বাজারে আসছে না বলে ডিলাররা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব দামের ওপর পড়ছে।

ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ, অর্ধেক পাচ্ছে ফিলিং স্টেশন

অন্যদিকে কিছু আমদানিকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ডিজেলের সংকটের কারণে তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

তেজকুনিপাড়ার সুমা জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী মো. শুভ জানান, কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় অনেক কম বোতল সরবরাহ করছে। ১০ কার্টন তেল চাইলে ডিলাররা মাত্র তিন কার্টন দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি লিটারে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের মালিক মো. রায়হান বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে পাঁচ লিটারের বোতল এখন প্রায় ৯৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এত বেশি দামে কিনে যদি অন্তত কিছু লাভ না থাকে, তাহলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।