ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে মাত্র ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়েছে বলে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ হিসাব সামনে এসেছে। এই বিপুল অর্থব্যয়ের তথ্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি গোপন বৈঠকে জানানো হয়, যা ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুদ্ধের প্রকৃত মোট ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এই হিসাব কেবল সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনের আংশিক খরচকে নির্দেশ করে।

যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনের ব্যয়
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের ব্রিফিংয়ে জানান, ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযানের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এই পরিমাণে পুরো যুদ্ধের সব খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়।
আইনপ্রণেতারা সংঘাতের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ব্যয়ের বিস্তারিত জানতে চাপ বাড়ানোর পর এই তথ্য সামনে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের মোট ব্যয় বা সংঘাত কতদিন চলতে পারে সে সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মূল্যায়ন দেওয়া হয়নি।
আরও তহবিল চাইতে পারে সরকার
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই প্রশাসন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের কাছে নতুন তহবিল অনুমোদনের আবেদন করতে পারে। কিছু কর্মকর্তার মতে, এই অতিরিক্ত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও সামরিক ব্যয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোলাবারুদের বিপুল ব্যবহার
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের আরও জানান, হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই বিপুল ব্যবহারের ফলে মার্কিন সামরিক মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন সময়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যখন প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যে বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল।
কংগ্রেসে বাড়ছে উদ্বেগ
কংগ্রেসের অনেক সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। ফলে প্রশাসনের কাছে তারা পরিষ্কার পরিকল্পনা জানতে চাইছেন।
বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা প্রশাসনের কাছে প্রকাশ্যে জবাবদিহি দাবি করেছেন। তারা জানতে চাইছেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং সংঘাত শেষ হলে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জয়ী হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















