যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে ‘এমভি ক্যালিপসো এন’
জাহাজটি মোংলা বন্দরের বাইরের নোঙরে এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) স্বাক্ষরিত সমঝোতা
স্মারকের আওতায় নগদ ক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে এই চালান আনা হয়েছে। জাহাজে
থাকা গমের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত খালাসের
ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
জিটুজি চুক্তিতে আমদানির অগ্রগতি
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুটি জিটুজি চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত
মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছেছে। নতুন চালানটি মোংলা
বন্দরে খালাসের পর সরকারি গুদাম মোংলা সাইলোতে সংরক্ষণ করা হবে, তারপর
দেশের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা হবে। প্রথম জিটুজি চুক্তির আওতায় ৪ লাখ
৪০ হাজার টন এবং দ্বিতীয় চুক্তিতে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টন আমদানির
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যঘাটতি কমানো এবং
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধাজনক শুল্ক হার পাওয়ার লক্ষ্যে গত বছর এই
সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বাংলাদেশের গম আমদানির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের বার্ষিক গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে দেশীয়
উৎপাদন মাত্র প্রায় ১০ লাখ টন। অর্থাৎ বিশাল একটি অংশ আমদানির ওপর
নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের গমের অন্যতম প্রধান উৎস
হয়ে উঠেছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে বাংলাদেশ মার্কিন গমের অষ্টম বৃহত্তম
ক্রেতা হিসেবে স্থান পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে হরমুজ প্রণালি
বন্ধ থাকায় সার ও কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই কৌশলগত শস্য আমদানি সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















