ইরানের সামরিক বাহিনী বুধবার বাণিজ্যিক জাহাজে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখে
ঘোষণা করেছে যে বিশ্বকে ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার তেলের জন্য প্রস্তুত থাকতে
হবে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র রাষ্ট্রীয়
টেলিভিশনে বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তেহরান পারস্য
উপসাগরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। বুধবার ইরান দুবাই আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের কাছেও ড্রোন হামলা চালায়, আহত হন চারজন, যদিও ফ্লাইট চালু
ছিল।
হরমুজ বন্ধ রেখে বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ পারাপারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু
ঘোষণা করেছে। প্রণালিটি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি
জাহাজ চলাচল করে, যা বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ
বহন করে। বাহরাইনের রিফাইনারি কমপ্লেক্সে ইরানি হামলায় আগুন লাগলে
দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ফোর্স ম্যাজেউর ঘোষণা করেছে। কুয়েত ৮টি
ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, সৌদি আরব ৫টি আটকেছে যা দেশটির শায়বা তেল
ক্ষেত্রের দিকে ছুটে আসছিল। ইরানের সামরিক কমান্ড ঘোষণা করেছে যে
মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায়
রয়েছে।

যুদ্ধের বৃহত্তর পরিণতি ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল প্রস্তাবিত একটি
প্রস্তাব বুধবার ভোটে উঠতে চলেছে, যেখানে ইরানকে প্রতিবেশী আরব
রাষ্ট্রগুলোতে হামলা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। চীন বিরোধ অবিলম্বে সমাপ্তির
আহ্বান জানালেও তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে কোনো আলোচনায় রাজি
হওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। ইউনেস্কো ইরানে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানগুলো
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট
এখন একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















