আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বুধবার ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি তেল
মজুদ নিঃসরণের ঘোষণা দিয়েছে, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল
হয়ে পড়ায় এই বিশাল পরিমাণ তেলও চলমান সরবরাহ ঘাটতি পূরণে অপ্রতুল।
ব্রেন্ট ক্রুড বুধবার ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছে
পৌঁছায়, প্রমাণ করছে যে মজুদ নিঃসরণের ঘোষণা বাজারের উদ্বেগ প্রশমিত
করতে পারেনি।
রেকর্ড মজুদ নিঃসরণের পটভূমি
আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল প্যারিস থেকে ঘোষণা করেন যে সংস্থার
৩২টি সদস্যরাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২২ সালে
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সংস্থাটি ১৮ কোটি ২৭ লাখ ব্যারেল নিঃসরণ
করেছিল, যা ছিল এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এবারের নিঃসরণ সেই রেকর্ডের
দ্বিগুণেরও বেশি। জি-সেভেন শক্তিমন্ত্রীরা মঙ্গলবার প্যারিসে বৈঠক করে
কৌশলগত মজুদ ব্যবহারের নীতিগত সমর্থন দেন। এর পরদিনই আইইএ এই ঐতিহাসিক
সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দেশ আগামী
সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় মজুদ থেকে তেল ছাড়তে শুরু করবে।

হরমুজ অচলাবস্থায় মজুদ নিঃসরণ কেন যথেষ্ট নয়
বিশ্লেষকরা হিসাব করে দেখাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন
প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও ৪৫ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত
জ্বালানি বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই হিসাবে ৪০ কোটি ব্যারেলের
মজুদ মাত্র ২৬ দিনেই শেষ হয়ে যাবে। শক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা অমৃতা সেন বলেন, এই নিঃসরণ হারানো
সরবরাহ পূরণে ব্যর্থ হবে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে সামান্য বিকল্প থাকবে।
পরামর্শ প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি অনুমান করছে, দীর্ঘায়িত অচলাবস্থায়
ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে। অপরদিকে ইরানের
সামরিক কমান্ড সতর্ক করেছে যে বিশ্বকে ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার তেলের জন্য
প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রণালিতে নৌ-মাইন বিছানোর খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল
করে তুলেছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ না থামলে কোনো মজুদ নিঃসরণই এই
সংকট সমাধান করতে পারবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















