০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা ইউটিউবে নতুন সুবিধা: ফ্রি ব্যবহারকারীরাও এবার ভিডিও দেখবেন ছোট ভাসমান পর্দায়

ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল নিয়ে হিসাব ভুল করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা মনে করেছিলেন যে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত থাকবে। বিশেষ করে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না বলে তারা ধারণা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় এবং তাদের সেই হিসাব বড় ধরনের ভুল প্রমাণিত হয়।

বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থেমে যাওয়া, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়া—এসবই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

যুদ্ধের আগে ঝুঁকি খাটো করে দেখা

ফেব্রুয়ারি ১৮ তারিখে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছিলেন, তখন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি যুক্তি দেন, আগের বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময়ও তেলের বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তখন দাম সামান্য বাড়লেও দ্রুত আবার কমে গিয়েছিল।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়

ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টাও ব্যক্তিগতভাবে একই মত প্রকাশ করেছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, এবারও ইরান তেল পরিবহন রুট বন্ধ করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার মতো পদক্ষেপ নেবে না।

কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে ওঠে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, থেমে যায় জাহাজ চলাচল

ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়।

ইরানের হুমকির পর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার উপায় খুঁজতে শুরু করে।

ইরান | ইরান কেন বন্ধুহীন?The Daily Star

ইরানের প্রত্যাশার চেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটনের অনেক কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতিক্রিয়া কতটা তীব্র হতে পারে তা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেনি।

গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এবার ইরান অনেক বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, আরব দেশগুলোর শহর এবং ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া এবং জ্বালানির দাম কমানোর নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়েছে।

কংগ্রেসে উদ্বেগ

মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের পর কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস্টোফার এস. মারফি সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রশাসনের কাছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি মোকাবিলার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, প্রণালিটি কীভাবে নিরাপদভাবে আবার খুলে দেওয়া যাবে সে বিষয়েও প্রশাসনের পরিষ্কার ধারণা নেই।

প্রশাসনের ভেতরে হতাশা

White House press secretary Karoline Leavitt's relative detained by ICE

প্রশাসনের ভেতরে কিছু কর্মকর্তা যুদ্ধ শেষ করার সুস্পষ্ট কৌশল না থাকায় হতাশা প্রকাশ করছেন। তবে তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের সামনে এসব উদ্বেগ তুলে ধরতে সতর্ক থাকছেন।

কারণ ট্রাম্প বারবার ঘোষণা করেছেন যে সামরিক অভিযান পুরোপুরি সফল হয়েছে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করে এমন একজন নেতাকে ক্ষমতায় আনা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি হবেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তুলনামূলক সীমিত ও কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেছেন।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রশাসনের একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা ছিল।

তার মতে, তেলের বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে তা সাময়িক।

তিনি বলেন, ইরানের তৈরি এই অস্থিরতা স্বল্পমেয়াদি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সন্ত্রাসী হুমকি দূর করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

পেন্টাগনের বিস্ময়

নারীর ভোটাধিকার বিরোধে যাজক, সমর্থনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া পেন্টাগনের জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল।

তিনি বলেন, ইরান এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে তা ধারণা করা হয়েছিল, তবে বাস্তবে এর মাত্রা বেশি ছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্দেশে বলেন, সাহস দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল চালিয়ে যেতে হবে।

বাজারে বিভ্রান্তি

মঙ্গলবার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করে দিয়েছে।

এই বার্তার পর বাজারে আশাবাদ তৈরি হয় এবং শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়। কিন্তু পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন, কারণ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা জানান যে এমন কোনো এসকর্ট মিশন বাস্তবে হয়নি।

এর ফলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দেয়।

ইরানের মাইন বসানোর আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে 'এক লিটার তেলও' যেতে দেবো না: ইরান

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তবুও এই খবর প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায় যে তারা প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান আক্রমণ করেছে।

রাজনৈতিক চাপ ও তেলের দাম

বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক নীতির প্রচারে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বাড়ালে এই সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি টেক্সাসে একটি নতুন তেল শোধনাগার তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

যুদ্ধ শেষের সম্ভাব্য পথ

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসরায়েলপন্থি মার্কো রুবিও

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা।
দ্বিতীয়ত, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা।
তৃতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়া।

ট্রাম্প একদিকে বলেছেন যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে পারে, আবার অন্যদিকে দাবি করেছেন অভিযান প্রায় সম্পূর্ণ সফল।

যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছে।

এটি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়।

এদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালি হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য পরাজয় ও কষ্টের পথ হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল নিয়ে হিসাব ভুল করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন 

০৩:০০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা মনে করেছিলেন যে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত থাকবে। বিশেষ করে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না বলে তারা ধারণা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় এবং তাদের সেই হিসাব বড় ধরনের ভুল প্রমাণিত হয়।

বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থেমে যাওয়া, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়া—এসবই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

যুদ্ধের আগে ঝুঁকি খাটো করে দেখা

ফেব্রুয়ারি ১৮ তারিখে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছিলেন, তখন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি যুক্তি দেন, আগের বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময়ও তেলের বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তখন দাম সামান্য বাড়লেও দ্রুত আবার কমে গিয়েছিল।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়

ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টাও ব্যক্তিগতভাবে একই মত প্রকাশ করেছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, এবারও ইরান তেল পরিবহন রুট বন্ধ করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার মতো পদক্ষেপ নেবে না।

কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে ওঠে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, থেমে যায় জাহাজ চলাচল

ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়।

ইরানের হুমকির পর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার উপায় খুঁজতে শুরু করে।

ইরান | ইরান কেন বন্ধুহীন?The Daily Star

ইরানের প্রত্যাশার চেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটনের অনেক কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতিক্রিয়া কতটা তীব্র হতে পারে তা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেনি।

গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এবার ইরান অনেক বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, আরব দেশগুলোর শহর এবং ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া এবং জ্বালানির দাম কমানোর নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়েছে।

কংগ্রেসে উদ্বেগ

মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের পর কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস্টোফার এস. মারফি সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রশাসনের কাছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি মোকাবিলার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, প্রণালিটি কীভাবে নিরাপদভাবে আবার খুলে দেওয়া যাবে সে বিষয়েও প্রশাসনের পরিষ্কার ধারণা নেই।

প্রশাসনের ভেতরে হতাশা

White House press secretary Karoline Leavitt's relative detained by ICE

প্রশাসনের ভেতরে কিছু কর্মকর্তা যুদ্ধ শেষ করার সুস্পষ্ট কৌশল না থাকায় হতাশা প্রকাশ করছেন। তবে তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের সামনে এসব উদ্বেগ তুলে ধরতে সতর্ক থাকছেন।

কারণ ট্রাম্প বারবার ঘোষণা করেছেন যে সামরিক অভিযান পুরোপুরি সফল হয়েছে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করে এমন একজন নেতাকে ক্ষমতায় আনা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি হবেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তুলনামূলক সীমিত ও কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেছেন।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রশাসনের একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা ছিল।

তার মতে, তেলের বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে তা সাময়িক।

তিনি বলেন, ইরানের তৈরি এই অস্থিরতা স্বল্পমেয়াদি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সন্ত্রাসী হুমকি দূর করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

পেন্টাগনের বিস্ময়

নারীর ভোটাধিকার বিরোধে যাজক, সমর্থনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া পেন্টাগনের জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল।

তিনি বলেন, ইরান এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে তা ধারণা করা হয়েছিল, তবে বাস্তবে এর মাত্রা বেশি ছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্দেশে বলেন, সাহস দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল চালিয়ে যেতে হবে।

বাজারে বিভ্রান্তি

মঙ্গলবার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করে দিয়েছে।

এই বার্তার পর বাজারে আশাবাদ তৈরি হয় এবং শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়। কিন্তু পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন, কারণ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা জানান যে এমন কোনো এসকর্ট মিশন বাস্তবে হয়নি।

এর ফলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দেয়।

ইরানের মাইন বসানোর আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে 'এক লিটার তেলও' যেতে দেবো না: ইরান

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তবুও এই খবর প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায় যে তারা প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান আক্রমণ করেছে।

রাজনৈতিক চাপ ও তেলের দাম

বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক নীতির প্রচারে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বাড়ালে এই সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি টেক্সাসে একটি নতুন তেল শোধনাগার তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

যুদ্ধ শেষের সম্ভাব্য পথ

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসরায়েলপন্থি মার্কো রুবিও

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা।
দ্বিতীয়ত, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা।
তৃতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়া।

ট্রাম্প একদিকে বলেছেন যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে পারে, আবার অন্যদিকে দাবি করেছেন অভিযান প্রায় সম্পূর্ণ সফল।

যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছে।

এটি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়।

এদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালি হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য পরাজয় ও কষ্টের পথ হয়ে উঠবে।