মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যবসায়িক পরিবেশে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচের বড় চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোম্পানির তুলনায় ছোট ব্যবসাগুলোর পুঁজি ও আর্থিক সক্ষমতা কম হওয়ায় হঠাৎ খরচ বেড়ে গেলে তা সামাল দেওয়া তাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারে এসব ছোট প্রতিষ্ঠান।
![]()
ছোট ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্বেগ
সিঙ্গাপুরের একটি পিজা রেস্তোরাঁ ‘গোল্ডেনরয় সাওয়ারডো পিজা’-র মালিক রয় চ্যান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির চাপ—সবকিছু সামলে তিনি ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। তবে এবার নতুন এক সংকট সামনে দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
রয় চ্যান জানান, তার রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে শিগগিরই দাম বাড়তে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ খরচ বাড়ছে, যার প্রভাবে উপকরণের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, এখনো ডেলিভারি সেবাগুলো তাদের চার্জ বাড়ায়নি। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে সেটিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়লে কেন বাড়ে ব্যবসার খরচ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য বড় অর্থনীতির দেশ যেমন চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কম। তবুও তেলের দাম বেড়ে গেলে এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ব্যবসা ব্যবস্থায়।
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন, মালবাহী জাহাজ, লজিস্টিকস এবং ভ্রমণ খরচ বেড়ে যায়। ফলে কাঁচামাল আনা থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত এই ধরনের খরচ বৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা সময় ধরে সামাল দিতে পারে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে তা করা কঠিন। ফলে তেলের দামের এই নতুন ধাক্কা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু ছোট ব্যবসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















