০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই সব আসনে ‘আমি-ই প্রার্থী’ বার্তা মমতার, ভোটের আগে আবেগঘন প্রচার তৃণমূলের সাত মাসে ব্যাংক থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, ইউ-লুপ ব্রিজে মর্মান্তিক সংঘর্ষ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ধীরগতি, সুযোগ নিচ্ছে জাপানের জীবাশ্ম প্রযুক্তি উদ্যোগ

টোকিও — জাকার্তা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার বিমানযাত্রা এবং এরপর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে পাঁচ ঘণ্টার গাড়ি ভ্রমণ করলে পৌঁছানো যায় ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা লাবোহ ভূতাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে। জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশন ও ইনপেক্সের তৈরি এই প্রকল্পে বর্তমানে নতুন খননযন্ত্র কাজ করছে। লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট থেকে দ্বিগুণ করা। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা ২০২৭ সালে।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল গত বছর। কিন্তু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাপান নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক উদ্যোগ এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি বা এজেক না থাকলে কাজটি আরও অনেক দেরিতে শুরু হতে পারত।

এজেকের সূচনা ও ভূমিকা
এজেক আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২৩ সালের মার্চে। এতে আসিয়ান দেশগুলোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াও যুক্ত রয়েছে। এর লক্ষ্য অঞ্চলজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মুয়ারা লাবোহ প্রকল্পটি গত বছর এজেকের প্রথম প্রকল্প হিসেবে অর্থায়ন নিশ্চিত করে। এই উদ্যোগ সরকারি সমর্থন এনে দিয়েছে এবং আলোচনায় নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করে প্রকল্পের গতি বাড়িয়েছে।

এ পর্যন্ত এজেক ৫৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরীক্ষামূলক প্রকল্প।

Environment: News & Insights - Nikkei Asia

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে বিদ্যুতের কার্বন নির্ভরতা
বিশ্বের অনেক দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বনের ব্যবহার কমছে। কিন্তু আসিয়ান অঞ্চলে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বনের মাত্রা বরং বাড়ছে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিক থেকেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাপপ্রবাহ, টাইফুন এবং বন্যার মতো দুর্যোগে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দশকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।

এজেকের ভিন্ন পথ
বিশ্বজুড়ে কার্বন কমানোর মূল ভরসা সৌর ও ভূতাপীয় শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস হলেও এজেক সেই পথে পুরোপুরি নির্ভর করছে না। বরং এর নীতি হলো “এক লক্ষ্য, নানা পথ”।

জাপানের এজেক দূত তাকিও ইয়ামাদা বলেন, এই উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে একচেটিয়া নির্ভরতার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, প্রতিটি দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সমাধান খুঁজে বের করাই এজেকের লক্ষ্য।

আসিয়ান অঞ্চলে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ তুলনামূলক ধীর। তাই এই পদ্ধতি কিছু দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিতে বাধা
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আসিয়ান অঞ্চলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ১০৯ গিগাওয়াটে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৫ শতাংশেই আটকে আছে।

অন্য অঞ্চলের মতো এখানে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির খরচ দ্রুত কমেনি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়, অস্পষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা, কঠোর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া নবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রগতিকে ধীর করে দিয়েছে।

Asean renewable energy sector gets boost from China's solar projects, faces  hurdle of fossil fuels reliance | South China Morning Post

বহুপাক্ষিক উদ্যোগেও ধাক্কা
২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপ’ নামে একটি চুক্তি করে। এতে যথাক্রমে ২০ বিলিয়ন ও ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

কিন্তু বাস্তবে সেই অর্থের খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই উদ্যোগ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

জীবাশ্ম প্রযুক্তির ওপর জোর
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এজেকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রকল্প নবায়নযোগ্য বা বিদ্যুতায়ন নিয়ে হলেও আরেক-তৃতীয়াংশ প্রকল্প সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর মধ্যে রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গ্যাসে রূপান্তর, গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা বাড়ানো, কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টে অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন মিশিয়ে ব্যবহার এবং কার্বন ধরে রাখা ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি।

পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা
অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন মিশিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলো বর্তমানে চেষ্টা করছে জীবাশ্ম জ্বালানির ২০ শতাংশ পর্যন্ত এই বিকল্প জ্বালানিতে প্রতিস্থাপন করা যায় কি না।

ভবিষ্যতে এই হার ৫০ শতাংশ এবং পরে ১০০ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এবং এটি আদৌ কার্বন নিরপেক্ষ লক্ষ্য পূরণে কতটা সহায়ক হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Japan moves to fill Asia's $40tn energy funding gap in China's stead

খরচের বড় ব্যবধান
ব্লুমবার্গ নিউ এনার্জি ফাইন্যান্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিলিপাইনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০ শতাংশ কয়লার জায়গায় অ্যামোনিয়া ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সৌর শক্তির তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে অর্ধেক গ্যাস ও অর্ধেক হাইড্রোজেন মিশিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও সৌর শক্তির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

কার্বন সংরক্ষণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও খরচ বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি কার্বন মূল্য বা ভর্তুকি ছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা কঠিন।

অর্থায়নের জটিলতা
এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রচলিত জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়া কঠিন।

জাপানের মিজুহো ব্যাংকের কর্মকর্তা মাসাকি নোমোতো বলেন, ‘ট্রানজিশন প্রযুক্তি’ কী—এ বিষয়ে স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা এখনো বড়
তবুও আসিয়ান দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অঞ্চলের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুৎ খাতে কার্বন কমানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হলো সৌর শক্তি ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌর প্যানেল ও বায়ু টারবাইন একবার স্থাপন করলে বহু বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রযুক্তি বহির্ভরশীল সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।

এদিকে চীন থেকে আসিয়ান অঞ্চলে সৌর প্যানেল রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে, যা নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সহায়ক হতে পারে।

Clean Energy and Decarbonization in Southeast Asia: Overview, Obstacles,  and Opportunities

কার্বন নির্গমন মাপার নতুন উদ্যোগ
এজেকের একটি নতুন কর্মসূচি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নির্গমন পরিমাপ ও প্রতিবেদন কাঠামো তৈরি করতে কাজ করছে। এটি ভবিষ্যতে কার্বন বাজার গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে।

তবে এমন কাঠামো তৈরি করতে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যা সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বর্তমানে আসিয়ান অঞ্চল বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৫ শতাংশের জন্য দায়ী। কিন্তু একটি জরিপে দেখা গেছে, অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি নীতিনির্ধারক, গবেষক ও ব্যবসায়ী জলবায়ু পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়াকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের কাছে ভূতাপীয় শক্তি, বায়ুশক্তি এবং কৃষির সঙ্গে সৌর শক্তির সমন্বয়সহ বিভিন্ন পরিষ্কার প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা রয়েছে।

সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এজেক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, যেখানে জাপানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আসিয়ান দেশগুলোর কার্বন কমানোর বিনিয়োগ চাহিদা একসঙ্গে মিলিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ধীরগতি, সুযোগ নিচ্ছে জাপানের জীবাশ্ম প্রযুক্তি উদ্যোগ

১১:০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

টোকিও — জাকার্তা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার বিমানযাত্রা এবং এরপর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে পাঁচ ঘণ্টার গাড়ি ভ্রমণ করলে পৌঁছানো যায় ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা লাবোহ ভূতাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে। জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশন ও ইনপেক্সের তৈরি এই প্রকল্পে বর্তমানে নতুন খননযন্ত্র কাজ করছে। লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট থেকে দ্বিগুণ করা। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা ২০২৭ সালে।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল গত বছর। কিন্তু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাপান নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক উদ্যোগ এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি বা এজেক না থাকলে কাজটি আরও অনেক দেরিতে শুরু হতে পারত।

এজেকের সূচনা ও ভূমিকা
এজেক আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২৩ সালের মার্চে। এতে আসিয়ান দেশগুলোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াও যুক্ত রয়েছে। এর লক্ষ্য অঞ্চলজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মুয়ারা লাবোহ প্রকল্পটি গত বছর এজেকের প্রথম প্রকল্প হিসেবে অর্থায়ন নিশ্চিত করে। এই উদ্যোগ সরকারি সমর্থন এনে দিয়েছে এবং আলোচনায় নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করে প্রকল্পের গতি বাড়িয়েছে।

এ পর্যন্ত এজেক ৫৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরীক্ষামূলক প্রকল্প।

Environment: News & Insights - Nikkei Asia

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে বিদ্যুতের কার্বন নির্ভরতা
বিশ্বের অনেক দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বনের ব্যবহার কমছে। কিন্তু আসিয়ান অঞ্চলে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বনের মাত্রা বরং বাড়ছে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিক থেকেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাপপ্রবাহ, টাইফুন এবং বন্যার মতো দুর্যোগে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দশকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।

এজেকের ভিন্ন পথ
বিশ্বজুড়ে কার্বন কমানোর মূল ভরসা সৌর ও ভূতাপীয় শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস হলেও এজেক সেই পথে পুরোপুরি নির্ভর করছে না। বরং এর নীতি হলো “এক লক্ষ্য, নানা পথ”।

জাপানের এজেক দূত তাকিও ইয়ামাদা বলেন, এই উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে একচেটিয়া নির্ভরতার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, প্রতিটি দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সমাধান খুঁজে বের করাই এজেকের লক্ষ্য।

আসিয়ান অঞ্চলে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ তুলনামূলক ধীর। তাই এই পদ্ধতি কিছু দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিতে বাধা
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আসিয়ান অঞ্চলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ১০৯ গিগাওয়াটে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৫ শতাংশেই আটকে আছে।

অন্য অঞ্চলের মতো এখানে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির খরচ দ্রুত কমেনি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়, অস্পষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা, কঠোর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া নবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রগতিকে ধীর করে দিয়েছে।

Asean renewable energy sector gets boost from China's solar projects, faces  hurdle of fossil fuels reliance | South China Morning Post

বহুপাক্ষিক উদ্যোগেও ধাক্কা
২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপ’ নামে একটি চুক্তি করে। এতে যথাক্রমে ২০ বিলিয়ন ও ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

কিন্তু বাস্তবে সেই অর্থের খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই উদ্যোগ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

জীবাশ্ম প্রযুক্তির ওপর জোর
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এজেকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রকল্প নবায়নযোগ্য বা বিদ্যুতায়ন নিয়ে হলেও আরেক-তৃতীয়াংশ প্রকল্প সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর মধ্যে রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গ্যাসে রূপান্তর, গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা বাড়ানো, কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টে অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন মিশিয়ে ব্যবহার এবং কার্বন ধরে রাখা ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি।

পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা
অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন মিশিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলো বর্তমানে চেষ্টা করছে জীবাশ্ম জ্বালানির ২০ শতাংশ পর্যন্ত এই বিকল্প জ্বালানিতে প্রতিস্থাপন করা যায় কি না।

ভবিষ্যতে এই হার ৫০ শতাংশ এবং পরে ১০০ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এবং এটি আদৌ কার্বন নিরপেক্ষ লক্ষ্য পূরণে কতটা সহায়ক হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Japan moves to fill Asia's $40tn energy funding gap in China's stead

খরচের বড় ব্যবধান
ব্লুমবার্গ নিউ এনার্জি ফাইন্যান্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিলিপাইনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০ শতাংশ কয়লার জায়গায় অ্যামোনিয়া ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সৌর শক্তির তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে অর্ধেক গ্যাস ও অর্ধেক হাইড্রোজেন মিশিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও সৌর শক্তির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

কার্বন সংরক্ষণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও খরচ বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি কার্বন মূল্য বা ভর্তুকি ছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা কঠিন।

অর্থায়নের জটিলতা
এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রচলিত জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়া কঠিন।

জাপানের মিজুহো ব্যাংকের কর্মকর্তা মাসাকি নোমোতো বলেন, ‘ট্রানজিশন প্রযুক্তি’ কী—এ বিষয়ে স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা এখনো বড়
তবুও আসিয়ান দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অঞ্চলের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুৎ খাতে কার্বন কমানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হলো সৌর শক্তি ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌর প্যানেল ও বায়ু টারবাইন একবার স্থাপন করলে বহু বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রযুক্তি বহির্ভরশীল সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।

এদিকে চীন থেকে আসিয়ান অঞ্চলে সৌর প্যানেল রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে, যা নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সহায়ক হতে পারে।

Clean Energy and Decarbonization in Southeast Asia: Overview, Obstacles,  and Opportunities

কার্বন নির্গমন মাপার নতুন উদ্যোগ
এজেকের একটি নতুন কর্মসূচি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নির্গমন পরিমাপ ও প্রতিবেদন কাঠামো তৈরি করতে কাজ করছে। এটি ভবিষ্যতে কার্বন বাজার গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে।

তবে এমন কাঠামো তৈরি করতে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যা সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বর্তমানে আসিয়ান অঞ্চল বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৫ শতাংশের জন্য দায়ী। কিন্তু একটি জরিপে দেখা গেছে, অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি নীতিনির্ধারক, গবেষক ও ব্যবসায়ী জলবায়ু পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়াকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের কাছে ভূতাপীয় শক্তি, বায়ুশক্তি এবং কৃষির সঙ্গে সৌর শক্তির সমন্বয়সহ বিভিন্ন পরিষ্কার প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা রয়েছে।

সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এজেক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, যেখানে জাপানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আসিয়ান দেশগুলোর কার্বন কমানোর বিনিয়োগ চাহিদা একসঙ্গে মিলিত হবে।