দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলে এলপিজি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় কমিউনিটি রান্নাঘর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পর্যন্ত নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে সংকটের প্রভাব। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ মেনু ছোট করতে বাধ্য হয়েছে, কোথাও আবার বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে স্কুল, কলেজ ও ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনে। নিয়মিত খাবার পরিবেশন বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিচালকেরা। ফলে অনেক জনপ্রিয় খাবার আপাতত বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে মেনু সংকোচন
এলপিজি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে রান্নার ধরন বদলাতে হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন ইতিমধ্যেই তাদের খাবারের তালিকা ছোট করেছে। অন্য একটি বিখ্যাত ক্যান্টিন সাময়িকভাবে তাদের জনপ্রিয় মাটন দোসা প্রস্তুত বন্ধ রেখেছে।
উত্তর দিল্লির বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও ছাত্রাবাসসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোও একই সমস্যার কথা জানাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ বজায় রাখা এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
সরকারের নজরদারি জোরদার
এদিকে দিল্লি প্রশাসন জানিয়েছে, ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার যাতে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার না হয় সে জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল ও পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো ঘাটতি নেই।
সরকার জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হতে এবং গুজব বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মজুতদারি বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার আশ্বাস
খাদ্য, সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে সহজে সিলিন্ডার বুকিং করা যায় এবং নিয়ম মেনে সরবরাহ নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে কালোবাজারি ও মজুতদারি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহও ধাপে ধাপে স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দে গৃহস্থালি ও পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















