০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ ঢাকায় আটক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা ভারতের বাজারে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই হোন্ডার, নতুন এসইউভি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বাজি নগরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ: পলাশীর প্রতিরোধের অজানা ইতিহাস ব্যারিকেড, রক্ত আর সাহসের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায় ইসরায়েলের ‘শিরশ্ছেদ’ কৌশলে ফাটল? ইরানে নেতৃত্ব হত্যা বাড়ালেও জোরদার হচ্ছে কঠোরপন্থা

বার্ধক্য মানেই কি ভালোবাসার শেষ? দীর্ঘ জীবনে ঘনিষ্ঠতার নতুন অধ্যায়

ভালোবাসা, স্পর্শ আর ঘনিষ্ঠতা—এসব কি শুধু তরুণদের জন্য? অনেকেই এমনটাই মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বয়স বাড়লেও মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অনুভূতি ও শারীরিক সান্নিধ্যের আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যায় না। বরং দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময় সম্পর্ককে আরও গভীর, আন্তরিক এবং আনন্দময় করে তোলে।

দীর্ঘ জীবনে নতুন ঘনিষ্ঠতার গল্প

বয়স ৮২। তবুও নিয়ম করে সপ্তাহে একদিন নিজেদের বিশেষ সময় ঠিক করে রাখেন জোয়ান প্রাইস ও তাঁর সঙ্গী ম্যাক মার্শাল। আট বছরের সম্পর্কের পুরো সময়জুড়েই তারা এই নিয়ম বজায় রেখেছেন।

তারা একসঙ্গে থাকেন না। তাই কখনো একজনের বাড়ি, কখনো অন্যজনের বাড়িতে দেখা করেন। দেখা করার আগে দুজনেই যত্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেন। কখনো নতুন কিছু ব্যবহার করে দেখেন, কখনো শুধু সময় কাটান আলাপ, স্পর্শ আর সান্নিধ্যে।

জোয়ান বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি যতটা আনন্দময় ও আন্তরিক ঘনিষ্ঠতা অনুভব করছেন, তা আগে কখনো করেননি।

Ms. Price’s two hands hold a sex toy. Some other sex toys are lying on a green sheet, out of focus.

বয়স বাড়লে কি সত্যিই ঘনিষ্ঠতা কমে যায়?

অনেকের ধারণা, বয়স বাড়লে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা আসলে বয়সভিত্তিক ভুল ধারণা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী মানুষের অর্ধেকেরও বেশি এখনো সক্রিয় ঘনিষ্ঠ জীবন বজায় রাখেন। এমনকি ৭৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।

তবে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন ইচ্ছা কমে যাওয়া, শারীরিক অস্বস্তি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত সীমাবদ্ধতা। কিন্তু চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব।

শরীরের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ধরনও বদলে যায়। তরুণ বয়সের মতো তীব্রতা না থাকলেও সম্পর্কের গভীরতা অনেক সময় বাড়ে।

A bottle reading "Simply Timeless Aqua Jelle" sits near some colorful sex toys.

শরীরের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দম্পতিকে নতুনভাবে নিজেদের সম্পর্ককে সাজাতে হয়। কখনো ধীরে চলা, কখনো আলাদা ভঙ্গি বা নতুন পদ্ধতি—সবই হতে পারে এই অভিযোজনের অংশ।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যারা পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে নিজেদের মতো করে সম্পর্ককে সাজাতে পারেন, তাদের সম্পর্ক আরও আনন্দময় হয়।

যোগাযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি

৮০ বছর বয়সী সু নামের এক নারী বলেন, তাঁর শরীরের নানা অস্ত্রোপচার হয়েছে, হাঁটু ও কাঁধ বদলানো হয়েছে। তবুও তিন দশকের সঙ্গীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো গভীর ও আনন্দময়।

এর মূল কারণ হলো খোলামেলা যোগাযোগ। কী ভালো লাগছে, কোথায় অস্বস্তি হচ্ছে, কোনভাবে স্বস্তি পাওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে তারা খোলামেলা কথা বলেন।

এই খোলামেলা আলাপই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।

আনন্দের সংজ্ঞা বদলে যায়

Ms. Price raises a large metal bell.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে শুধু নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোর মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক সময় নতুনভাবে আনন্দ খুঁজে পেতে শেখে।

কারও জন্য ঘনিষ্ঠতা মানে হতে পারে আলতো স্পর্শ, দীর্ঘ আলাপ, বা একসঙ্গে সময় কাটানো। আবার কারও জন্য তা হতে পারে একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—আনন্দের সংজ্ঞা প্রত্যেক মানুষের কাছে আলাদা।

জীবন যত দীর্ঘ, শেখার সুযোগ তত বেশি

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ যে কোনো বয়সেই নতুন কিছু শিখতে পারে। নিজের শরীর, অনুভূতি ও সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি তৈরি করা সম্ভব জীবনের যেকোনো পর্যায়ে।

অনেকেই পরে এসে আফসোস করেন—এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যদি আরও আগে জানা যেত!

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শেখা ও আবিষ্কারের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।

A close-up of Mr. Marshall laughing. Ms. Price, in profile and out of focus, sits beside him.

হাসি, বোঝাপড়া আর সহমর্মিতা

জোয়ান ও ম্যাকের জীবনেও এসেছে বড় চ্যালেঞ্জ। এক সড়ক দুর্ঘটনায় জোয়ানের ঘাড় ভেঙে যায়, অন্যদিকে ম্যাক অপেক্ষা করছেন বড় অস্ত্রোপচারের জন্য।

তবুও তারা একে অপরকে সময় দেন, কথা বলেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ককে সাজান।

তাদের ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—আজ কী করা সম্ভব, আর কী করলে ভালো লাগে।

এই সহজ বোঝাপড়াই হয়তো দীর্ঘ জীবনের সম্পর্ককে নতুন আলোয় উজ্জ্বল করে তোলে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ

বার্ধক্য মানেই কি ভালোবাসার শেষ? দীর্ঘ জীবনে ঘনিষ্ঠতার নতুন অধ্যায়

০৪:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ভালোবাসা, স্পর্শ আর ঘনিষ্ঠতা—এসব কি শুধু তরুণদের জন্য? অনেকেই এমনটাই মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বয়স বাড়লেও মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অনুভূতি ও শারীরিক সান্নিধ্যের আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যায় না। বরং দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময় সম্পর্ককে আরও গভীর, আন্তরিক এবং আনন্দময় করে তোলে।

দীর্ঘ জীবনে নতুন ঘনিষ্ঠতার গল্প

বয়স ৮২। তবুও নিয়ম করে সপ্তাহে একদিন নিজেদের বিশেষ সময় ঠিক করে রাখেন জোয়ান প্রাইস ও তাঁর সঙ্গী ম্যাক মার্শাল। আট বছরের সম্পর্কের পুরো সময়জুড়েই তারা এই নিয়ম বজায় রেখেছেন।

তারা একসঙ্গে থাকেন না। তাই কখনো একজনের বাড়ি, কখনো অন্যজনের বাড়িতে দেখা করেন। দেখা করার আগে দুজনেই যত্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেন। কখনো নতুন কিছু ব্যবহার করে দেখেন, কখনো শুধু সময় কাটান আলাপ, স্পর্শ আর সান্নিধ্যে।

জোয়ান বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি যতটা আনন্দময় ও আন্তরিক ঘনিষ্ঠতা অনুভব করছেন, তা আগে কখনো করেননি।

Ms. Price’s two hands hold a sex toy. Some other sex toys are lying on a green sheet, out of focus.

বয়স বাড়লে কি সত্যিই ঘনিষ্ঠতা কমে যায়?

অনেকের ধারণা, বয়স বাড়লে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা আসলে বয়সভিত্তিক ভুল ধারণা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী মানুষের অর্ধেকেরও বেশি এখনো সক্রিয় ঘনিষ্ঠ জীবন বজায় রাখেন। এমনকি ৭৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।

তবে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন ইচ্ছা কমে যাওয়া, শারীরিক অস্বস্তি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত সীমাবদ্ধতা। কিন্তু চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব।

শরীরের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ধরনও বদলে যায়। তরুণ বয়সের মতো তীব্রতা না থাকলেও সম্পর্কের গভীরতা অনেক সময় বাড়ে।

A bottle reading "Simply Timeless Aqua Jelle" sits near some colorful sex toys.

শরীরের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দম্পতিকে নতুনভাবে নিজেদের সম্পর্ককে সাজাতে হয়। কখনো ধীরে চলা, কখনো আলাদা ভঙ্গি বা নতুন পদ্ধতি—সবই হতে পারে এই অভিযোজনের অংশ।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যারা পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে নিজেদের মতো করে সম্পর্ককে সাজাতে পারেন, তাদের সম্পর্ক আরও আনন্দময় হয়।

যোগাযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি

৮০ বছর বয়সী সু নামের এক নারী বলেন, তাঁর শরীরের নানা অস্ত্রোপচার হয়েছে, হাঁটু ও কাঁধ বদলানো হয়েছে। তবুও তিন দশকের সঙ্গীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো গভীর ও আনন্দময়।

এর মূল কারণ হলো খোলামেলা যোগাযোগ। কী ভালো লাগছে, কোথায় অস্বস্তি হচ্ছে, কোনভাবে স্বস্তি পাওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে তারা খোলামেলা কথা বলেন।

এই খোলামেলা আলাপই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।

আনন্দের সংজ্ঞা বদলে যায়

Ms. Price raises a large metal bell.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে শুধু নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোর মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক সময় নতুনভাবে আনন্দ খুঁজে পেতে শেখে।

কারও জন্য ঘনিষ্ঠতা মানে হতে পারে আলতো স্পর্শ, দীর্ঘ আলাপ, বা একসঙ্গে সময় কাটানো। আবার কারও জন্য তা হতে পারে একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—আনন্দের সংজ্ঞা প্রত্যেক মানুষের কাছে আলাদা।

জীবন যত দীর্ঘ, শেখার সুযোগ তত বেশি

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ যে কোনো বয়সেই নতুন কিছু শিখতে পারে। নিজের শরীর, অনুভূতি ও সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি তৈরি করা সম্ভব জীবনের যেকোনো পর্যায়ে।

অনেকেই পরে এসে আফসোস করেন—এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যদি আরও আগে জানা যেত!

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শেখা ও আবিষ্কারের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।

A close-up of Mr. Marshall laughing. Ms. Price, in profile and out of focus, sits beside him.

হাসি, বোঝাপড়া আর সহমর্মিতা

জোয়ান ও ম্যাকের জীবনেও এসেছে বড় চ্যালেঞ্জ। এক সড়ক দুর্ঘটনায় জোয়ানের ঘাড় ভেঙে যায়, অন্যদিকে ম্যাক অপেক্ষা করছেন বড় অস্ত্রোপচারের জন্য।

তবুও তারা একে অপরকে সময় দেন, কথা বলেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ককে সাজান।

তাদের ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—আজ কী করা সম্ভব, আর কী করলে ভালো লাগে।

এই সহজ বোঝাপড়াই হয়তো দীর্ঘ জীবনের সম্পর্ককে নতুন আলোয় উজ্জ্বল করে তোলে।