মণিপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল অপহরণ ও পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনাকে ঘিরে। নিখোঁজ দুই কুকি যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, আর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে আটক করা ২১ নাগা সম্প্রদায়ের নাগরিককে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিখোঁজের পর মৃতদেহ উদ্ধার
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচন্দ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে জানিয়েছেন, বুধবার অপহৃত দুই ব্যক্তির মৃতদেহ বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে থাওয়াই কুকি গ্রামের থেঙ্গিন বাইতে এবং উখরুল জেলার শাংকাই এলাকার থাংবোইমাং খোংসাই হিসেবে।
সরকার জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্তের জন্য জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলি
বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন কংগ্রেস বিধায়ক কে মেঘচন্দ্র। তিনি জানতে চান, থাওয়াই গ্রামে গোলাগুলি এবং সড়কে সাধারণ মানুষ অপহরণের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে গোবিন্দাস জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত উখরুল জেলার মাপিথেল পাহাড়ি এলাকায় দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। অভিযোগ, তার আগেই অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিরা দুই কুকি গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছিল।
এই গোলাগুলির সময় লালমিনথাং হাওকিপ নামে এক ব্যক্তি সামান্য গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কাংপোকপি জেলার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাল্টা প্রতিশোধে অপহরণ
সরকার জানায়, ওই ঘটনার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে উখরুল-ইম্ফল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের ২১ জন সাধারণ নাগরিককে শাংকাই এলাকায় কিছু কুকি সদস্য আটক করে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচন্দ রাজভবনে গভর্নর অজয় কুমার ভল্লার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরই অপহৃত নাগরিকদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্তি
জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ওই ২১ নাগরিককে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি যাতে আর না বাড়ে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তবে দুই কুকি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পাবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















