পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আর এন রবিকে স্বাগত জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলা ভালোবাসে তাদেরই যারা বাংলাকে ভালোবাসে।”
কয়েক দিন আগেই তিনি রবিকে “বিজেপির কর্মী” বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন যে তিনি যেন তামিলনাড়ুতে যেভাবে আচরণ করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে তা পুনরাবৃত্তি না করেন। সেই উত্তেজনার আবহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় নতুন রাজ্যপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান
কলকাতার লোক ভবনে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পল নতুন রাজ্যপাল আর এন রবিকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ নেওয়ার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিকে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি ‘উত্তরীয়’ উপহার দেন। সেই সময় তিনি বলেন, “বাংলাকে দেখুন… বাংলা ভালোবাসে তাদেরই যারা বাংলাকে ভালোবাসে।”
রবির বক্তব্য
শপথ নেওয়ার পর আর এন রবি কলকাতাকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের সময় কলকাতা ছিল ভারতের রাজধানী এবং এই শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান ও বিনীত মনে করছেন। তিনি আরও বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে এই ভূমি ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রবির মতে, বিদেশি আক্রমণ ও দখলের কঠিন সময়েও এই ভূমি বহু মহান ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের জন্ম দিয়েছে, যারা দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিলেন
কলকাতার সর্দার প্যাটেল ইউনিটি হলে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
তবে অনুষ্ঠানে বিজেপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ দলের প্রধান নেতারা অনুপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী তখন দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলি।
#মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায় #পশ্চিমবঙ্গ #রাজ্যপাল #আরএন_রবি #ভারতের_রাজনীতি
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















