০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ইরানে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়: নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ইরান ইস্যুর আড়ালে বসতি সম্প্রসারণের নতুন ঢেউ লেবাননে যুদ্ধ: নতুন করে জটিলতায় জড়াচ্ছে ইসরায়েল তেল না দেওয়ায় ক্ষোভ, নড়াইলে ট্রাকচাপায় পাম্প ম্যানেজার নিহত ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে লাতিনো ভোটাররা, ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিভূমিতে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, রিপাবলিকানদের মধ্যেও অস্বস্তি ভবিষ্যৎও এখন জুয়ার টেবিলে, বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে নতুন ‘ক্যাসিনো অর্থনীতি’ ট্রাম্পের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন, ইরান সংঘাতে অপ্রস্তুত সিদ্ধান্তে বাড়ছে সংকট হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের পথেই পাল্টা চাপ প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ড: ৬৫ বছর পরও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কঙ্গো

ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে লাতিনো ভোটাররা, ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিভূমিতে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল সেন্ট্রাল ভ্যালি, যেখানে গরুর খামার, সাইট্রাস ও বাদামের বাগান ছড়িয়ে রয়েছে মাইলের পর মাইল, সেই অঞ্চলই এখন দেশটির রাজনীতির বড় পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। এক সময় ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে লাতিনো ভোটারদের অবস্থান বদলে যাওয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

লাতিনো ভোটারদের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত

২০২৪ সালের নির্বাচনে লাতিনো ভোটারদের একটি বড় অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সেই সমর্থন আবারও সরে যেতে শুরু করেছে। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ভোটাররাই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ভিনসেন্ট মার্টিনেজ, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, এখন স্পষ্টভাবে হতাশ। তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার পরিবর্তে অভিবাসন ও বিদেশনীতি নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা উপেক্ষিত হচ্ছে।

In California's Central Valley, Latino Voters Are Up for Grabs in 2026's  Elections - The New York Times

অর্থনীতি বনাম অভিবাসন

এই অঞ্চলের অনেক লাতিনো ভোটার বলছেন, তাদের প্রধান উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয় সংকট। যদিও অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, তবে তা অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকাংশেই অনিবন্ধিত শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।

এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ লাতিনো মনে করছেন গত এক বছরে তাদের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং সরকারের নীতিগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে রাজনৈতিক অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছায়া

অভিবাসন অভিযান ও কঠোর নীতির কারণে পুরো অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। শ্রমিকরা নিয়মিত একে অপরকে সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছেন, অনেক পরিবার বাইরে যেতে দ্বিধা করছে, এমনকি কেউ কেউ সব সময় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখছেন।

স্থানীয় ব্যবসার ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। ছোট রেস্টুরেন্ট ও দোকানে আগের মতো ভিড় নেই, পার্ক ও খেলার মাঠও তুলনামূলক ফাঁকা। এই পরিস্থিতি পুরো কমিউনিটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

Latinos Feel the Sting of Trump's Presidency | The New Yorker

নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জ

ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে লাতিনো ভোটাররা এখন ‘সুইং ভোটার’ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ভ্যালির একটি আসন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভিড ভালাদাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, সেটি এখন সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, লাতিনো ভোটারদের আস্থা হারালে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

হতাশা বাড়ছে দুই দল নিয়েই

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অনেক লাতিনো ভোটার এখন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিই হতাশ। তাদের অভিযোগ, কেউই অভিবাসন সংস্কার বা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

স্থানীয় এক শ্রম ঠিকাদার বলেন, “আমরা বিশ্বকে খাওয়াই, কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছে না।” এই ক্ষোভই আগামী নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়: নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা

ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে লাতিনো ভোটাররা, ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিভূমিতে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল সেন্ট্রাল ভ্যালি, যেখানে গরুর খামার, সাইট্রাস ও বাদামের বাগান ছড়িয়ে রয়েছে মাইলের পর মাইল, সেই অঞ্চলই এখন দেশটির রাজনীতির বড় পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। এক সময় ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে লাতিনো ভোটারদের অবস্থান বদলে যাওয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

লাতিনো ভোটারদের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত

২০২৪ সালের নির্বাচনে লাতিনো ভোটারদের একটি বড় অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সেই সমর্থন আবারও সরে যেতে শুরু করেছে। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ভোটাররাই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ভিনসেন্ট মার্টিনেজ, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, এখন স্পষ্টভাবে হতাশ। তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার পরিবর্তে অভিবাসন ও বিদেশনীতি নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা উপেক্ষিত হচ্ছে।

In California's Central Valley, Latino Voters Are Up for Grabs in 2026's  Elections - The New York Times

অর্থনীতি বনাম অভিবাসন

এই অঞ্চলের অনেক লাতিনো ভোটার বলছেন, তাদের প্রধান উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয় সংকট। যদিও অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, তবে তা অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকাংশেই অনিবন্ধিত শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।

এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ লাতিনো মনে করছেন গত এক বছরে তাদের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং সরকারের নীতিগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে রাজনৈতিক অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছায়া

অভিবাসন অভিযান ও কঠোর নীতির কারণে পুরো অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। শ্রমিকরা নিয়মিত একে অপরকে সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছেন, অনেক পরিবার বাইরে যেতে দ্বিধা করছে, এমনকি কেউ কেউ সব সময় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখছেন।

স্থানীয় ব্যবসার ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। ছোট রেস্টুরেন্ট ও দোকানে আগের মতো ভিড় নেই, পার্ক ও খেলার মাঠও তুলনামূলক ফাঁকা। এই পরিস্থিতি পুরো কমিউনিটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

Latinos Feel the Sting of Trump's Presidency | The New Yorker

নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জ

ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে লাতিনো ভোটাররা এখন ‘সুইং ভোটার’ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ভ্যালির একটি আসন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভিড ভালাদাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, সেটি এখন সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, লাতিনো ভোটারদের আস্থা হারালে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

হতাশা বাড়ছে দুই দল নিয়েই

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অনেক লাতিনো ভোটার এখন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিই হতাশ। তাদের অভিযোগ, কেউই অভিবাসন সংস্কার বা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

স্থানীয় এক শ্রম ঠিকাদার বলেন, “আমরা বিশ্বকে খাওয়াই, কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছে না।” এই ক্ষোভই আগামী নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।