০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সিআইএতে অস্থিরতা: রাজনীতির ছায়ায় ভেঙে পড়ছে গোয়েন্দা সংস্থার মনোবল যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ডিএইচএসে নতুন মুখ, পুরনো সংকট: মুলিনের নরম ভাবমূর্তি কি পারবে উত্তপ্ত বাস্তব সামাল দিতে? যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির নতুন কৌশল, উল্টো চাপেই বাড়ছে বিতর্ক ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন রুবিওর উত্থান: ট্রাম্প প্রশাসনে কূটনীতির নতুন মুখ ইরানে কি স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি? সেনা মোতায়েনের মধ্যেই নতুন পরিকল্পনা—যা জানা গেছে নওগাঁর মান্দায় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু ডিজেল সংকটে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের বোরো সেচ, উৎপাদন কমার শঙ্কা রাজধানীর কলাবাগানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ইরান ইস্যুর আড়ালে বসতি সম্প্রসারণের নতুন ঢেউ

ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মনোযোগের সুযোগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা বেড়েছে। এতে নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনি, আর পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংগঠিত ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।


হামলার পরের চিত্র

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি নতুন রাস্তা তৈরি করে। ১৭ মার্চ সেখানে ট্রাকে করে অস্থায়ী ঘর নিয়ে আসা হয়। বহু বছর আগে উচ্ছেদ হওয়া ইহুদি পরিবারসহ একদল মানুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সেখানে ফিরে আসে। এটি ছিল সা-নুর নামের একটি পুরোনো বসতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ।

কিন্তু মাত্র চার দিন পরই ভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় কাছাকাছি দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে। এক ইসরায়েলি কিশোর গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসতিস্থাপনকারীরা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজনৈতিক চাপের মুখে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরিস্থিতি উত্তপ্তই থাকে।


সহিংসতার বিস্তার ও লক্ষ্য

এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য হলো বসতি সম্প্রসারণ এবং আশপাশের জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। এই প্রক্রিয়ায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেককে জোরপূর্বক তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের নীরব বা আংশিক সমর্থন এই সহিংসতাকে আরও উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সহিংসতা আরও বেড়েছে এবং পরিকল্পিত রূপ নিয়েছে।


আগের প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের পর থেকে উত্তেজনা

পশ্চিম তীরে সহিংসতা নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা থেকে হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। সেই সময় থেকে বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে চারণভূমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালায়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যাদের অনেকেই বসতিস্থাপনকারী বা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে মারা গেছেন। একই সময়ে প্রায় ৬০ জন ইসরায়েলিও নিহত হয়েছেন।


সহিংসতার নতুন ধরণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। আগে ছোট ও বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে মাঝে মাঝে হামলা হতো। এখন বড় কমিউনিটিতে নিয়মিত ও সংগঠিত হামলা হচ্ছে।

একজন ফিলিস্তিনি গবেষকের ভাষায়, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। এমনকি ইসরায়েলের ভেতর থেকেও সমালোচনা উঠেছে—কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে আছে।


‘পুনরুদ্ধার’ নাকি দখল বিস্তার?

বসতিস্থাপনকারীদের কাছে এটি এক ধরনের ‘পুনরুদ্ধার’ বা ফিরে পাওয়ার সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৫ সালে গাজা ও উত্তর পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলি বসতি সরিয়ে নেওয়ার সময় সা-নুর ছিল শেষদিকের উচ্ছেদ হওয়া এলাকাগুলোর একটি।

এখন নতুন করে সেখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—পুরোনো নীতির বিপরীতে নতুন এক বাস্তবতা গড়ে উঠছে।


পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এখন আরও জটিল ও অস্থির। আন্তর্জাতিক দৃষ্টি অন্যদিকে থাকায় এই অঞ্চলে সহিংসতা দ্রুত বাড়ছে। সংগঠিত হামলা, রাজনৈতিক নীরবতা এবং ভূমি দখলের প্রচেষ্টা মিলিয়ে সংকট আরও গভীর হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিআইএতে অস্থিরতা: রাজনীতির ছায়ায় ভেঙে পড়ছে গোয়েন্দা সংস্থার মনোবল

পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ইরান ইস্যুর আড়ালে বসতি সম্প্রসারণের নতুন ঢেউ

০৫:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মনোযোগের সুযোগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা বেড়েছে। এতে নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনি, আর পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংগঠিত ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।


হামলার পরের চিত্র

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি নতুন রাস্তা তৈরি করে। ১৭ মার্চ সেখানে ট্রাকে করে অস্থায়ী ঘর নিয়ে আসা হয়। বহু বছর আগে উচ্ছেদ হওয়া ইহুদি পরিবারসহ একদল মানুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সেখানে ফিরে আসে। এটি ছিল সা-নুর নামের একটি পুরোনো বসতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ।

কিন্তু মাত্র চার দিন পরই ভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় কাছাকাছি দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে। এক ইসরায়েলি কিশোর গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসতিস্থাপনকারীরা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজনৈতিক চাপের মুখে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরিস্থিতি উত্তপ্তই থাকে।


সহিংসতার বিস্তার ও লক্ষ্য

এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য হলো বসতি সম্প্রসারণ এবং আশপাশের জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। এই প্রক্রিয়ায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেককে জোরপূর্বক তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের নীরব বা আংশিক সমর্থন এই সহিংসতাকে আরও উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সহিংসতা আরও বেড়েছে এবং পরিকল্পিত রূপ নিয়েছে।


আগের প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের পর থেকে উত্তেজনা

পশ্চিম তীরে সহিংসতা নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা থেকে হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। সেই সময় থেকে বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে চারণভূমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালায়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যাদের অনেকেই বসতিস্থাপনকারী বা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে মারা গেছেন। একই সময়ে প্রায় ৬০ জন ইসরায়েলিও নিহত হয়েছেন।


সহিংসতার নতুন ধরণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। আগে ছোট ও বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে মাঝে মাঝে হামলা হতো। এখন বড় কমিউনিটিতে নিয়মিত ও সংগঠিত হামলা হচ্ছে।

একজন ফিলিস্তিনি গবেষকের ভাষায়, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। এমনকি ইসরায়েলের ভেতর থেকেও সমালোচনা উঠেছে—কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে আছে।


‘পুনরুদ্ধার’ নাকি দখল বিস্তার?

বসতিস্থাপনকারীদের কাছে এটি এক ধরনের ‘পুনরুদ্ধার’ বা ফিরে পাওয়ার সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৫ সালে গাজা ও উত্তর পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলি বসতি সরিয়ে নেওয়ার সময় সা-নুর ছিল শেষদিকের উচ্ছেদ হওয়া এলাকাগুলোর একটি।

এখন নতুন করে সেখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—পুরোনো নীতির বিপরীতে নতুন এক বাস্তবতা গড়ে উঠছে।


পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এখন আরও জটিল ও অস্থির। আন্তর্জাতিক দৃষ্টি অন্যদিকে থাকায় এই অঞ্চলে সহিংসতা দ্রুত বাড়ছে। সংগঠিত হামলা, রাজনৈতিক নীরবতা এবং ভূমি দখলের প্রচেষ্টা মিলিয়ে সংকট আরও গভীর হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনে।