১১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
হিলি স্থলবন্দর বন্ধ:  নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা চাপ পড়বে? হিলি স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের রংপুরে চার খুন: প্রধান আসামি সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে কৈলাস-মানস সরোবর: শত শত বছর ধরে যেখানে তীর্থযাত্রায় যান চার ধর্মের মানুষ গুম প্রতিরোধে বাংলাদেশে কী পরিবর্তন এসেছে? গুম করে কীভাবে রাখা হয়েছিল, নিজের বয়ানে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ‘দ্য ওয়ানস’—ফ্যাশন ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রচ্ছদ তারকারা প্রেমের নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ গর্ভাবস্থার দুঃস্বপ্নকে ভয় নয়, মনের ভাষা হিসেবে দেখা দরকার বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির ধ্বংস: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির নতুন কৌশল, উল্টো চাপেই বাড়ছে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে গিয়ে এখন নিজেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী প্রভাব ধরে রাখা এই লবি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পথ বদলালেও, সেই পরিবর্তনই এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পুরোনো বিতর্কের নতুন প্রত্যাবর্তন

প্রায় দুই দশক আগে প্রকাশিত একটি আলোচিত বইয়ে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলপন্থী লবি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তখন এই দাবিকে অনেকেই সমালোচনা করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে সেই পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।

জনমতের পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চাপ

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া ছিল দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাধারণ অবস্থান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থনে ফাটল ধরেছে। ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থার উত্থান এবং গাজা যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মনোভাব বদলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, ইসরায়েলপন্থী লবি সরকারের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এই অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নতুন কৌশল: সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় লবিটি তাদের কৌশল বদলেছে। আগে তারা মূলত নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলত, এখন সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের দিকে ঝুঁকেছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে তারা নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সরাসরি নিজেদের নাম ব্যবহার না করে, তারা বিভিন্ন নিরপেক্ষ শোনায় এমন সংগঠনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসব প্রচারণায় ইসরায়েলের প্রসঙ্গ প্রায়ই উল্লেখই করা হচ্ছে না।

মিশ্র ফলাফল ও উল্টো প্রতিক্রিয়া

এই নতুন কৌশল খুব একটা সফল হয়নি। কিছু জায়গায় তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জিতলেও, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা এসেছে। এমনকি যেসব প্রার্থীকে তারা সমর্থন দিয়েছে, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে এই সমর্থন থেকে দূরে সরে গেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। ফলে এই কৌশল লবিটির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গোপন প্রভাবের অভিযোগ ও ঝুঁকি

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরোক্ষ সংগঠন ব্যবহার করার এই কৌশল নতুন নয়। বিভিন্ন শিল্প খাতেও এমন পদ্ধতি দেখা গেছে। কিন্তু ইসরায়েলপন্থী লবির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষ করে গোপনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে, যা সমাজে বিদ্যমান সংবেদনশীল ধারণাগুলোকে উসকে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এই কৌশল তাদের মূল উদ্দেশ্যকেই দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিলি স্থলবন্দর বন্ধ:  নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা চাপ পড়বে?

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির নতুন কৌশল, উল্টো চাপেই বাড়ছে বিতর্ক

০৭:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে গিয়ে এখন নিজেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী প্রভাব ধরে রাখা এই লবি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পথ বদলালেও, সেই পরিবর্তনই এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পুরোনো বিতর্কের নতুন প্রত্যাবর্তন

প্রায় দুই দশক আগে প্রকাশিত একটি আলোচিত বইয়ে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলপন্থী লবি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তখন এই দাবিকে অনেকেই সমালোচনা করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে সেই পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।

জনমতের পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চাপ

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া ছিল দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাধারণ অবস্থান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থনে ফাটল ধরেছে। ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থার উত্থান এবং গাজা যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মনোভাব বদলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, ইসরায়েলপন্থী লবি সরকারের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এই অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নতুন কৌশল: সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় লবিটি তাদের কৌশল বদলেছে। আগে তারা মূলত নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলত, এখন সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের দিকে ঝুঁকেছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে তারা নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সরাসরি নিজেদের নাম ব্যবহার না করে, তারা বিভিন্ন নিরপেক্ষ শোনায় এমন সংগঠনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসব প্রচারণায় ইসরায়েলের প্রসঙ্গ প্রায়ই উল্লেখই করা হচ্ছে না।

মিশ্র ফলাফল ও উল্টো প্রতিক্রিয়া

এই নতুন কৌশল খুব একটা সফল হয়নি। কিছু জায়গায় তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জিতলেও, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা এসেছে। এমনকি যেসব প্রার্থীকে তারা সমর্থন দিয়েছে, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে এই সমর্থন থেকে দূরে সরে গেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। ফলে এই কৌশল লবিটির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গোপন প্রভাবের অভিযোগ ও ঝুঁকি

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরোক্ষ সংগঠন ব্যবহার করার এই কৌশল নতুন নয়। বিভিন্ন শিল্প খাতেও এমন পদ্ধতি দেখা গেছে। কিন্তু ইসরায়েলপন্থী লবির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষ করে গোপনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে, যা সমাজে বিদ্যমান সংবেদনশীল ধারণাগুলোকে উসকে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এই কৌশল তাদের মূল উদ্দেশ্যকেই দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।