যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগে নতুন নেতৃত্ব এলেও শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন নতুন প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য হলো সংস্থাটিকে প্রতিদিনের বিতর্কের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে আনা। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার সেই লক্ষ্যকে কঠিন করে তুলছে।
ভাবমূর্তি বদলের প্রতিশ্রুতি
গত এক বছরে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কঠোর অভিবাসন অভিযানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। নতুন প্রধান মুলিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংস্থাটিকে আরও সংযত ও মানবিকভাবে পরিচালনা করতে চান তিনি। তার মতে, আইসিকে একটি আক্রমণাত্মক বাহিনীর বদলে পরিবহনসেবা ধাঁচে কাজ করা উচিত।
তিনি আরও বলেছেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশের আগে বিচারিক অনুমতি নেওয়া উচিত এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও কিছু শহরের মধ্যে বিরোধকে তিনি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন।
অর্থায়ন সংকট ও কর্মীদের অসন্তোষ
তবে নীতিগত অবস্থানের বাইরে বাস্তব সমস্যাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিরোধী দল অর্থায়ন বিল আটকে রেখেছে। ফলে অনেক কর্মীকে বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
বিশেষ করে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। শত শত কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং একদিনে প্রায় ১১ শতাংশ কর্মী অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
অস্থায়ী সমাধান, নতুন বিতর্ক
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আইসির সদস্যদের বিমানবন্দরে পাঠিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বলছে, আইসি কর্মকর্তারা যাত্রী তল্লাশির জন্য প্রশিক্ষিত নন, ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে তারা মূলত প্রবেশপথে পাহারা ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ করছে, যা পরিস্থিতির পূর্ণ সমাধান দিতে পারছে না।
কংগ্রেসে অচলাবস্থা
এই সংকট এখন রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। কংগ্রেসে আলোচনায় একটি প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে সংস্থার অধিকাংশ কার্যক্রমের অর্থায়ন অনুমোদন করা হলেও আইসির বহিষ্কার কার্যক্রম আলাদা বিলের মাধ্যমে পাশ করানো হবে।
এদিকে বিরোধী পক্ষ চাইছে, আইসির ওপর কঠোর সংস্কার আরোপ করা হোক, যেমন বডি ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং অভিযানকালে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
অনিশ্চয়তার মধ্যে নেতৃত্বের পরীক্ষা
নতুন প্রধান মুলিনের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে তাকে সংস্থার ভাবমূর্তি পুনর্গঠন করতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রশাসনিক সংকট সামাল দিতে হবে। আর এর মধ্যেই জনসাধারণের ভোগান্তি দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
Sarakhon Report 



















