০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির ধ্বংস: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের পথেই পাল্টা চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ঝুঁকি বাড়িয়ে কার্যত নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

ঝুঁকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

ইরান সরাসরি সামরিক অবরোধ না করেই সীমিত হামলা ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে ভয় তৈরি করেছে। এর ফলে জাহাজ মালিক ও বীমা সংস্থাগুলো নিজেদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পথটি এড়িয়ে চলছে। ফলে খুব অল্প পদক্ষেপেই পুরো বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

এই কৌশলটি অনেকটাই সেই পদ্ধতির মতো, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ব্যবহার করেছিল। কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে চাপ সৃষ্টি করে পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার সেই নীতিই এখন উল্টোভাবে প্রয়োগ করছে ইরান।

In the Strait of Hormuz, ships make a bargain to negotiate their safe  passage - ABC News

অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি বাজার

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ বেড়েছে। জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান কার্যত এই জলপথের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বাড়ছে চাপ। তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক বাণিজ্য নিশ্চিত করা।

কৌশলগত পাল্টা চাল

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুঝে গেছে যে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা অনেক বেশি কার্যকর। সীমিত হামলার মাধ্যমেই তারা বৈশ্বিক কোম্পানি ও বাজারকে নিজেদের কৌশলের অংশে পরিণত করেছে।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ একবার ঝুঁকির ধারণা তৈরি হলে তা সহজে দূর হয় না। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থেকে যেতে পারে।

Why naval escorts through Strait of Hormuz are so risky

বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা

এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন শুধু কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি, ঝুঁকি এবং বেসরকারি খাত—সবই হয়ে উঠছে রাষ্ট্রনীতির অংশ।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি অন্য দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করে, তাহলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সংকট মোকাবিলা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির ধ্বংস: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের পথেই পাল্টা চাপ

০৩:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ঝুঁকি বাড়িয়ে কার্যত নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

ঝুঁকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

ইরান সরাসরি সামরিক অবরোধ না করেই সীমিত হামলা ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে ভয় তৈরি করেছে। এর ফলে জাহাজ মালিক ও বীমা সংস্থাগুলো নিজেদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পথটি এড়িয়ে চলছে। ফলে খুব অল্প পদক্ষেপেই পুরো বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

এই কৌশলটি অনেকটাই সেই পদ্ধতির মতো, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ব্যবহার করেছিল। কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে চাপ সৃষ্টি করে পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার সেই নীতিই এখন উল্টোভাবে প্রয়োগ করছে ইরান।

In the Strait of Hormuz, ships make a bargain to negotiate their safe  passage - ABC News

অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি বাজার

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ বেড়েছে। জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান কার্যত এই জলপথের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বাড়ছে চাপ। তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক বাণিজ্য নিশ্চিত করা।

কৌশলগত পাল্টা চাল

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুঝে গেছে যে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ঝুঁকি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা অনেক বেশি কার্যকর। সীমিত হামলার মাধ্যমেই তারা বৈশ্বিক কোম্পানি ও বাজারকে নিজেদের কৌশলের অংশে পরিণত করেছে।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ একবার ঝুঁকির ধারণা তৈরি হলে তা সহজে দূর হয় না। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থেকে যেতে পারে।

Why naval escorts through Strait of Hormuz are so risky

বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা

এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন শুধু কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি, ঝুঁকি এবং বেসরকারি খাত—সবই হয়ে উঠছে রাষ্ট্রনীতির অংশ।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি অন্য দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করে, তাহলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সংকট মোকাবিলা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।