পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা কেন্দ্রের হোস্টেল এবং ক্যান্টিনে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। কোথাও খাবারের তালিকা সীমিত করা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো ক্যান্টিনই বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী খাবারের ওপর নির্ভর করেন, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আহমেদাবাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের তালিকা কমানো
গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণ করেন। গ্যাস সংকটের কারণে সেখানে বড় ধরনের খাবারের আয়োজন বন্ধ করতে হয়েছে।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব খাবার রান্না করতে বেশি সময় লাগে এবং বেশি গ্যাস প্রয়োজন হয় সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পাঞ্জাবি ও গুজরাটি ধরনের পূর্ণাঙ্গ খাবার সরিয়ে এখন স্যান্ডউইচ বা হালকা খাবার পরিবেশনের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ক্যান্টিনের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, গ্যাসের মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমিত খাবার দিয়েই কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হবে।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হোস্টেলে ক্যান্টিন বন্ধ
কলকাতার শতবর্ষ পুরোনো এক শিক্ষার্থী হোস্টেলের ক্যান্টিনেও গ্যাসের ঘাটতির কারণে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় একশ বিশজন শিক্ষার্থী সেখানে থাকেন।
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে নতুন সরবরাহ কবে পৌঁছাবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পুনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকল্প জ্বালানির প্রস্তুতি
পুনের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যান্টিনে মাত্র এক বা দুই দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে। এরপর খাবার রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যুৎচালিত চুলায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রয়োজন হলে কয়লা বা কাঠের চুলা ব্যবহার করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
কোচিং শহর কোটায় চরম উদ্বেগ
রাজস্থানের কোটা শহর, যেখানে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য থাকেন, সেখানেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
অনেক হোস্টেল ও মেস ইতিমধ্যে কাঠের চুলায় রান্না শুরু করেছে। কিছু জায়গায় আবার মেস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মেস মালিকরা জানিয়েছেন, মাসে বিপুল সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে সব জায়গায় কাঠের চুলা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা খাবারের জন্য সমস্যায় পড়ছেন।
শিক্ষার্থীদের জীবনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা এবং আবাসিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বহু হোস্টেল ও ক্যান্টিনের জন্য খাবার সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















