১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা জ্বালানি তেল নিয়ে মজুতদারির অভিযোগ, কিন্তু দায় কার তেলের দামে উল্লম্ফন, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: যুদ্ধের লাভে শঙ্কিত পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলো লন্ডনে একা থাকা এখন বিলাসিতা: ভাড়া বাঁচাতে ৩৫ পেরিয়েও বাড়ছে রুমমেট সংস্কৃতি ইউরোপের প্রবৃদ্ধি সংকট: ঐক্যহীনতা ও সংস্কার জটিলতায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কেন ইরানের পক্ষে লাভজনক পিঁপড়াদের থ্রিডি জগত উন্মোচন, বিজ্ঞানীদের চোখে অবাক করা জীববৈচিত্র্যের মিছিল হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত

রুপির রেকর্ড পতন: হরমুজ সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ডলারের বিপরীতে নতুন নিম্নে ভারতীয় মুদ্রা

ডলারের বিপরীতে আবারও বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে রুপি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। শুক্রবার লেনদেন শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর দাঁড়িয়েছে ৯২.৩—যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলার চাহিদা বেড়ে গিয়ে রুপির ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী সংকটে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার সম্ভাবনা সামনে আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের আশঙ্কা থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা

মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের বিনিয়োগ রক্ষায় রুপি বিক্রি করে ডলার ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন। এর ফলে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।

এদিকে শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা গেছে। টানা কয়েকদিন বড় পতনের মধ্যে সূচকের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে রুপির পতন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জ্বালানি সরবরাহে চাপ, বাড়তে পারে ঘাটতি

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী অর্থবছরেও এই চাপ বজায় থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের বড় কোনো ঘাটতির খবর পাওয়া যায়নি, তবু তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে কিছু চাপের ইঙ্গিত মিলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে রুপির ওপর চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা

রুপির রেকর্ড পতন: হরমুজ সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ডলারের বিপরীতে নতুন নিম্নে ভারতীয় মুদ্রা

০৬:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ডলারের বিপরীতে আবারও বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে রুপি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। শুক্রবার লেনদেন শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর দাঁড়িয়েছে ৯২.৩—যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলার চাহিদা বেড়ে গিয়ে রুপির ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী সংকটে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার সম্ভাবনা সামনে আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের আশঙ্কা থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা

মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের বিনিয়োগ রক্ষায় রুপি বিক্রি করে ডলার ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন। এর ফলে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।

এদিকে শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা গেছে। টানা কয়েকদিন বড় পতনের মধ্যে সূচকের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে রুপির পতন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জ্বালানি সরবরাহে চাপ, বাড়তে পারে ঘাটতি

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী অর্থবছরেও এই চাপ বজায় থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের বড় কোনো ঘাটতির খবর পাওয়া যায়নি, তবু তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে কিছু চাপের ইঙ্গিত মিলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে রুপির ওপর চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।