ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওঠা দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বলেছেন, মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্যে কোনও সমস্যা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে তেহরান।
খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা
এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য সামনে এসেছে, সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক মহলে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত এবং সম্ভবত বিকৃত হয়ে গেছেন। তাঁর দাবি ছিল, খামেনি সম্প্রতি যে বিবৃতি দিয়েছেন তা কেবল লিখিত ছিল, সেখানে কোনও ভিডিও বা কণ্ঠবার্তা ছিল না।
&imwidth=800&imheight=600&format=webp&quality=medium)
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, ইরানে প্রচুর ক্যামেরা ও রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন সর্বোচ্চ নেতার কোনও ভিডিও বা কণ্ঠবার্তা প্রকাশ করা হয়নি, সেটিই প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের নেতৃত্ব সংকটে রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে আতঙ্কিত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি চালিয়ে ঐক্যের কথা বলছে।
তেহরানে সরকারপন্থী বিক্ষোভ
এদিকে তেহরানে সরকার সমর্থিত এক বড় সমাবেশে বহু শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা অংশ নেন। সেখানে বিক্ষোভকারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান লেখা ব্যানার দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা দুই দেশের বিরুদ্ধেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই সমাবেশে ইরানের নেতৃত্ব আবারও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় এবং বাইরের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানায়।

অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করার পর তেহরান নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু স্থানে।
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত বারো জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতশত তিয়াত্তর জন নিহত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















