০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র নতুন সমীকরণ কাগুজে টাকার জন্ম: ওয়াল স্ট্রিটের বহু আগে রাষ্ট্রীয় মুদ্রার ধারণা গড়ে তুলেছিল চীন গণভবন লুট বিতর্কে কারিনা, চেন্নাইয়ে সংকটাপন্ন উত্তর প্রদেশে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, প্রাণ গেল শতাধিক মানুষের হামের প্রাদুর্ভাবে বাড়ছে মৃত্যু, ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারীও নারায়ণগঞ্জে গভীর রাতে মুখোশধারীদের হামলা, গৃহকর্তাকে হত্যা করে লুট নাহিদ রানার ঝড়ে আইসিসির মাসসেরা সম্মান বাংলাদেশের ট্রাম্প-শি সমঝোতায় নতুন গতি, চীনের বড় বোয়িং অর্ডারের ইঙ্গিত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নতুন বার্তা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বই লিখে স্বামীর মৃত্যুতে সহানুভূতি, শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেন কৌরি রিচিন্স

হরমুজ প্রণালী নিয়ে তীব্র সতর্কতা: মিত্ররা পাশে না দাঁড়ালে ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’—নাটোকে ট্রাম্পের বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, মিত্র দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে সামরিক জোট নাটোর জন্য সামনে “খুব খারাপ ভবিষ্যৎ” অপেক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি চীনের কাছেও এই সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে মিত্রদের চাপ

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন সুবিধা পায়, তাদেরও এই জলপথ নিরাপদ রাখতে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তার ভাষায়, এই পথের সুবিধাভোগী দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সেখানে কোনো ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়—চীনসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে। কারণ বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে এবং এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

Trump warns NATO, presses China to help reopen Strait of Hormuz: Report -  The Economic Times

চীনকে সরাসরি বার্তা

ট্রাম্প মনে করেন, চীনেরও এই সংকটে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তার যুক্তি, চীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। তাই এই জলপথ খোলা রাখতে বেইজিংয়েরও স্বার্থ রয়েছে।

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই সম্ভাবনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

শি জিনপিং : প্রেসিডেন্ট নাকি সম্রাট

যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

ট্রাম্প ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনসহ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ এই অভিযানে অংশ নেবে।

তার মতে, ড্রোন হামলা বা নৌ-মাইনসহ বিভিন্ন সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথভাবে অভিযান চালানো প্রয়োজন। এই কাজে মাইন অপসারণকারী জাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ইরান যুদ্ধে জড়াবে না ফ্রান্স, যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবর অস্বীকার

ইরানকে নতুন হামলার হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই স্থাপনায় হামলা চালাতে সক্ষম। এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ডাক ট্রাম্পের

ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

ট্রাম্প ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়াও সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র উল্লেখ করলেও তিনি বলেছেন, শুরুতে ব্রিটেন সহায়তা দিতে অনীহা দেখিয়েছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, তখনই ব্রিটেন জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এই অবস্থান ট্রাম্পের কাছে সন্তোষজনক নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্র

হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব গভীর হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র নতুন সমীকরণ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে তীব্র সতর্কতা: মিত্ররা পাশে না দাঁড়ালে ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’—নাটোকে ট্রাম্পের বার্তা

১২:১৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, মিত্র দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে সামরিক জোট নাটোর জন্য সামনে “খুব খারাপ ভবিষ্যৎ” অপেক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি চীনের কাছেও এই সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে মিত্রদের চাপ

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন সুবিধা পায়, তাদেরও এই জলপথ নিরাপদ রাখতে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তার ভাষায়, এই পথের সুবিধাভোগী দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সেখানে কোনো ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়—চীনসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে। কারণ বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে এবং এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

Trump warns NATO, presses China to help reopen Strait of Hormuz: Report -  The Economic Times

চীনকে সরাসরি বার্তা

ট্রাম্প মনে করেন, চীনেরও এই সংকটে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তার যুক্তি, চীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। তাই এই জলপথ খোলা রাখতে বেইজিংয়েরও স্বার্থ রয়েছে।

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই সম্ভাবনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

শি জিনপিং : প্রেসিডেন্ট নাকি সম্রাট

যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

ট্রাম্প ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনসহ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ এই অভিযানে অংশ নেবে।

তার মতে, ড্রোন হামলা বা নৌ-মাইনসহ বিভিন্ন সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথভাবে অভিযান চালানো প্রয়োজন। এই কাজে মাইন অপসারণকারী জাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ইরান যুদ্ধে জড়াবে না ফ্রান্স, যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবর অস্বীকার

ইরানকে নতুন হামলার হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই স্থাপনায় হামলা চালাতে সক্ষম। এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ডাক ট্রাম্পের

ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

ট্রাম্প ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়াও সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র উল্লেখ করলেও তিনি বলেছেন, শুরুতে ব্রিটেন সহায়তা দিতে অনীহা দেখিয়েছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, তখনই ব্রিটেন জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এই অবস্থান ট্রাম্পের কাছে সন্তোষজনক নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্র

হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব গভীর হতে পারে।