ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে বিস্ময়কর এক গুজব—তিনি নাকি নিহত হয়েছেন অথবা গুরুতর আহত। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই দাবি প্রচারিত হওয়ার পর তা দ্রুতই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুজবের জবাব দিতে দেরি করেননি নেতানিয়াহু। তিনি নিজেই একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেম শহরের উপকণ্ঠের একটি ক্যাফেতে বসে তিনি কফি পান করছেন এবং নিজের এক সহকারীর সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। এই দৃশ্যই মূলত ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজবকে সরাসরি খণ্ডন করে।
গুজবের জবাবে কফির আড্ডা
ভিডিওতে নেতানিয়াহুর সহকারী তাকে জিজ্ঞেস করেন, তার মৃত্যু বা আহত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে সে বিষয়ে তিনি কী বলবেন। উত্তরে নেতানিয়াহু এক ধরনের শব্দখেলা ব্যবহার করেন। হিব্রু ভাষায় ‘মারা যাওয়া’ শব্দটি কখনও কখনও কথ্যভাষায় ‘কোনো কিছুর প্রতি পাগল হয়ে থাকা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
কফির কাপ হাতে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, তিনি কফির জন্য ‘পাগল’। এরপর যোগ করেন, তিনি তার জনগণের প্রতিও সমানভাবে ‘পাগল’ বা গভীরভাবে অনুরাগী। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি গুজবকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উড়িয়ে দেন।

ভিডিওর সত্যতা যাচাই
ভিডিওটি জেরুজালেমের উপকণ্ঠের একটি ক্যাফেতে ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্যাফেটির ভেতরের দৃশ্য এবং আগের সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে ভিডিওর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। একই দিনে ওই ক্যাফের পক্ষ থেকেও নেতানিয়াহুর সফরের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা ঘটনাটির সময় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমিত জনসমক্ষে উপস্থিতি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। সেই সময় থেকে নেতানিয়াহুর জনসমক্ষে উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে তিনি ইতিমধ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শহর, একটি হাসপাতাল, একটি বন্দর এবং কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন।
এসব সফরের সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি খুবই সীমিত ছিল। বেশিরভাগ ভিডিও ও তথ্য তার দপ্তর থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে।

ভিডিও সংযোগে সংবাদ সম্মেলন
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নেতানিয়াহু সরাসরি সংবাদ সম্মেলন খুব কম করেছেন। সম্প্রতি তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগেও ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।
এদিকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। বড় ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষকে বাড়ির কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
গুজব, যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধ
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতের মধ্যে তথ্যযুদ্ধও সমানভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে অনেকেই সেই তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবেই দেখছেন। তবে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দ্রুতই সেই গুজবের ইতি টানার চেষ্টা করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















