লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফের চাল বণ্টনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ড ঘিরে এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে সংসদ সদস্যের নামে চালের ৩০ শতাংশ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা তা অস্বীকার করেছেন এবং একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
ভাইরাল অডিওতে কী শোনা যাচ্ছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজের কণ্ঠের সঙ্গে মিল আছে বলে দাবি করা একটি কণ্ঠ শোনা যায়। সেখানে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে ভিজিএফের চালের ভাগ নিয়ে কথোপকথন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, সংসদ সদস্যের নামে ৩০ শতাংশ চাল বণ্টনের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বৈঠকে বসেছিলেন এবং একজন প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছিল।
পরে কথোপকথনের এক পর্যায়ে চাল বিতরণের টোকেন এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কথাবার্তা চলতে থাকে, যা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

কখনের ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কথোপকথনটি গত মঙ্গলবারের। এর পরদিন বুধবার নাশকতার একটি পুরনো মামলায় পুলিশ মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পরদিনই অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লব আগে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার
অডিওটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি তার নয় এবং ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কোনো কথোপকথনও হয়নি।
তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। একই সঙ্গে এলাকায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এমপির বক্তব্য
লালমনিরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ছিল এবং এলাকার গণ্যমান্য দুই ব্যক্তির মাধ্যমে একটি অংশ বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশাসনের ব্যাখ্যা
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করা হয়। তবে সেখানে কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ কোটা দেওয়ার বিধান নেই।
তার মতে, অডিও ভাইরালের ঘটনাটি প্রশাসনের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ভিজিএফ চাল বণ্টনের তথ্য
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মদাতি ইউনিয়নে বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ৩৪৫টি কার্ড।
প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে সুবিধাভোগীরা দশ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















