মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জোরদার হওয়ায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, আর বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তবে ইরান এখনো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, যা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
সংঘাত, যুদ্ধবিরতি ও অনিশ্চয়তা
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসায় নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আবার পাকিস্তানে গিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরে অবরোধ আরোপ এবং একটি জাহাজ জব্দ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। শুক্রবার ইরান জানায়, তারা আবার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে—এর ফলে তেলের দাম হঠাৎ কমে যায়।
কিন্তু সোমবার আবার পরিস্থিতি বদলে যায়, ইরান নতুন করে প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর পেছনে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও জাহাজ জব্দের ঘটনাকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না এবং এতে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বন্দ্ব
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হয়ে গেলে আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। তিনি এটাও ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রক্রিয়াকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চায়। তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান কোনো আলোচনা মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে নতুন কৌশল দেখাতে প্রস্তুত।
বাজারের প্রতিক্রিয়া
সব অনিশ্চয়তার মাঝেও বিনিয়োগকারীরা এখনো আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ও ব্রেন্ট—উভয় ধরনের তেলের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে।
শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের উত্থান
এশিয়ার শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের উত্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। সিউলের সূচক নতুন করে শক্তিশালী হয়েছে, পাশাপাশি টোকিও ও তাইপেও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। হংকং, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলাতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যদিও সাংহাই ও সিডনিতে ওঠানামা ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন নিশ্চিত সমাধানের চেয়ে সম্ভাব্য অগ্রগতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, কারণ প্রতিটি নতুন খবর বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষা খাতে নীতিগত পরিবর্তন
এদিকে জাপান দীর্ঘদিনের অস্ত্র রপ্তানি নীতি শিথিল করার ঘোষণা দেওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শক্তি উভয়ই বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এর প্রভাবে জাপানের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, যা বাজারে নতুন আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















