০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, জুনেই অবমুক্তির সিদ্ধান্ত চায়ের কাপেই বিশ্বায়নের গল্প: নতুন যুগে কেন আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন ন্যায়বিচারের আগে কি ভাইরাল ভিডিও জরুরি? আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পাঁচ বছরের মূল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? বিরতির আহ্বানে নতুন বিতর্ক ভারতে ডিজেল বিক্রিতে নতুন বিধিনিষেধে উদ্বেগ, চাপে হাসপাতাল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন চুক্তির আড়ালে পুরোনো প্রশ্ন: ইরান কি সত্যিই বদলাতে প্রস্তুত? সরকারী ব্যয় বাড়ানো ও দেশকে দেউলিয়া হবার পথে নিয়ে যাবার বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার রাজপথে তীব্র ছাত্র আন্দোলন সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে? এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার, এশিয়ার বাজারে প্রভাবের ইঙ্গিত

বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাস সংকটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তান উপকূলের গভীর সমুদ্রে নতুন এক বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এনি। ‘জেলিগা’ নামের এই ক্ষেত্রটি দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলিগা গ্যাসক্ষেত্রের বড় আবিষ্কার

ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যানাল ব্লকের গভীর সমুদ্র এলাকায় জেলিগা-১ অনুসন্ধান কূপে এই আবিষ্কার হয়েছে। এখানে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেট মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই কূপটি প্রায় ৫,১০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে, যেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ২,০০০ মিটার।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও পরিকল্পনা

জ্বালানি মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া এই আবিষ্কারকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন নিজস্ব জ্বালানি মজুত রক্ষায় মনোযোগী, তখন নতুন উৎস খুঁজে বের করা ইন্দোনেশিয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সরকারের লক্ষ্য নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

Indonesia's manufacturers hit hard by Middle East energy shock, domestic gas  crunch - The Business Times

উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য

বর্তমানে এনি ইন্দোনেশিয়ায় দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে। নতুন আবিষ্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে ২,০০০ মিলিয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কনডেনসেট উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—২০২৮ সালে দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল এবং দশকের শেষে ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যৌথ উদ্যোগ ও আঞ্চলিক সম্প্রসারণ

গ্যানাল ব্লকটি পরিচালনা করছে এনি, যেখানে তাদের অংশীদারিত্ব ৮২ শতাংশ। বাকি ১৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সিনোপেক-এর কাছে।

এই ব্লকটি একটি বৃহত্তর যৌথ উদ্যোগের অংশ, যেখানে পেট্রোনাস-এর সঙ্গে মিলে ‘সেয়ারাহ’ নামে নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন কোম্পানির লক্ষ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সমতুল্য সম্পদ উন্নয়ন করা এবং নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা।

New momentum for Indonesia's stalled Masela gas field - Asia Times

আগের আবিষ্কার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

জেলিগা আবিষ্কারটি কুতাই অববাহিকায় ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ। এর আগে ২০২৩ সালে গেং নর্থ এবং ২০২৫ সালে কন্টা-১ কূপে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল।

এছাড়া ‘গুলা’ নামের আরেকটি কূপে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেট মজুত রয়েছে।

জেলিগা ও গুলা—এই দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে অতিরিক্ত ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু উৎপাদন বাড়াবে না, বরং দেশের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, জুনেই অবমুক্তির সিদ্ধান্ত

ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার, এশিয়ার বাজারে প্রভাবের ইঙ্গিত

০৩:১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাস সংকটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তান উপকূলের গভীর সমুদ্রে নতুন এক বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এনি। ‘জেলিগা’ নামের এই ক্ষেত্রটি দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলিগা গ্যাসক্ষেত্রের বড় আবিষ্কার

ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যানাল ব্লকের গভীর সমুদ্র এলাকায় জেলিগা-১ অনুসন্ধান কূপে এই আবিষ্কার হয়েছে। এখানে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেট মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই কূপটি প্রায় ৫,১০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে, যেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ২,০০০ মিটার।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও পরিকল্পনা

জ্বালানি মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া এই আবিষ্কারকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন নিজস্ব জ্বালানি মজুত রক্ষায় মনোযোগী, তখন নতুন উৎস খুঁজে বের করা ইন্দোনেশিয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সরকারের লক্ষ্য নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

Indonesia's manufacturers hit hard by Middle East energy shock, domestic gas  crunch - The Business Times

উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য

বর্তমানে এনি ইন্দোনেশিয়ায় দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে। নতুন আবিষ্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে ২,০০০ মিলিয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কনডেনসেট উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—২০২৮ সালে দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল এবং দশকের শেষে ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যৌথ উদ্যোগ ও আঞ্চলিক সম্প্রসারণ

গ্যানাল ব্লকটি পরিচালনা করছে এনি, যেখানে তাদের অংশীদারিত্ব ৮২ শতাংশ। বাকি ১৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সিনোপেক-এর কাছে।

এই ব্লকটি একটি বৃহত্তর যৌথ উদ্যোগের অংশ, যেখানে পেট্রোনাস-এর সঙ্গে মিলে ‘সেয়ারাহ’ নামে নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন কোম্পানির লক্ষ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সমতুল্য সম্পদ উন্নয়ন করা এবং নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা।

New momentum for Indonesia's stalled Masela gas field - Asia Times

আগের আবিষ্কার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

জেলিগা আবিষ্কারটি কুতাই অববাহিকায় ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ। এর আগে ২০২৩ সালে গেং নর্থ এবং ২০২৫ সালে কন্টা-১ কূপে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল।

এছাড়া ‘গুলা’ নামের আরেকটি কূপে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেট মজুত রয়েছে।

জেলিগা ও গুলা—এই দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে অতিরিক্ত ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু উৎপাদন বাড়াবে না, বরং দেশের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।