রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট কাটেনি। রাজধানীসহ নানা স্থানে পাম্পে তেল না থাকায় আগের মতোই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রেশনিং উঠলেও বাস্তবে তেলের সংকট
রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পে সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার পাম্পে গিয়ে দেখছেন তেল শেষ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেশনিং তুলে নেওয়ার খবর শুনে অনেকেই গাড়ি নিয়ে বের হলেও পাম্পে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ চালকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনকে তদারকির নির্দেশ
জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সরবরাহ, মজুত ও বিপণন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেন।
কোথাও যদি অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়, সে ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরবরাহে
সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরই মধ্যে আমদানি করা কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রা ও কৃষি মৌসুম বিবেচনায় সিদ্ধান্ত
সরকার জানিয়েছে, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব বিতরণ কেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
পাম্পে গিয়ে বিপাকে চালকরা
রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা নিহার রহমান জানান, রেশনিং তুলে নেওয়ার খবর শুনে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। কিন্তু কাছের পাম্পে গিয়ে দেখেন সেখানে তেল নেই।
তিনি বলেন, রিজার্ভ তেলের ভরসায় কোনোমতে অফিসে পৌঁছেছেন। তবে ফেরার সময় কীভাবে ফিরবেন তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার মতো অনেকেই একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

সরবরাহ বাড়লে সংকট কমবে
পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও সঙ্গে সঙ্গে সংকট কেটে যাবে না। পাম্প মালিকরা তাদের চাহিদা জানিয়েছেন, যা ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিপো থেকে সরবরাহের গাড়ি পৌঁছালে দুপুরের মধ্যে অনেক পাম্পে তেল পাওয়া শুরু হবে।
অন্যদিকে জ্বালানি খাতের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন রেশনিং থাকায় অনেক পাম্পে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে হঠাৎ করে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরও সরবরাহ বাড়তে সময় লাগছে। তবে নতুন করে তেল সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















