০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ ঢাকায় আটক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা ভারতের বাজারে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই হোন্ডার, নতুন এসইউভি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বাজি নগরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ: পলাশীর প্রতিরোধের অজানা ইতিহাস ব্যারিকেড, রক্ত আর সাহসের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায় ইসরায়েলের ‘শিরশ্ছেদ’ কৌশলে ফাটল? ইরানে নেতৃত্ব হত্যা বাড়ালেও জোরদার হচ্ছে কঠোরপন্থা

শিক্ষায় সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১.৭ শতাংশ: সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম

বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে সরকারি ব্যয় কমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এটি অনেক কম, যা দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

এই তথ্য তুলে ধরা হয় ‘সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশ’-এর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। সেখানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা: নতুন ভাবনা, নতুন কাঠামো ও নতুন উদ্যোগ’।

শিক্ষা ব্যয়ের বাস্তব চিত্র

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রকৃত ব্যবহার আরও কমে জিডিপির প্রায় ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ ইউনেস্কো শিক্ষায় ব্যয় জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করে থাকে।

গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের নীতিপত্রে শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরিকল্পনার লক্ষ্য বারবার পিছিয়েছে

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৫ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী নীতিগত কাঠামোতে সেই লক্ষ্য আরও পিছিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যমান পার্সপেকটিভ পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে ৪ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি বড় বাধা

গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষাখাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা এবং দুর্বল কর আদায় ব্যবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় অন্যতম নিম্ন। এর ফলে সরকারের পক্ষে শিক্ষাখাতে ব্যয় বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

উন্নয়ন ব্যয় কমছে

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষাখাতে উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিপরীতে পরিচালন ব্যয় এখন বাজেট কাঠামোর বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

গবেষকদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে দেশের নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

ভবিষ্যতের শ্রমবাজার নিয়ে সতর্কতা

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, বাজেট বাস্তবায়ন উন্নত করা এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ২০৩১ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে ব্যয় জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষায় যথেষ্ট বিনিয়োগ না বাড়ালে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ

শিক্ষায় সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১.৭ শতাংশ: সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম

০৬:০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে সরকারি ব্যয় কমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এটি অনেক কম, যা দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

এই তথ্য তুলে ধরা হয় ‘সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশ’-এর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। সেখানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা: নতুন ভাবনা, নতুন কাঠামো ও নতুন উদ্যোগ’।

শিক্ষা ব্যয়ের বাস্তব চিত্র

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রকৃত ব্যবহার আরও কমে জিডিপির প্রায় ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ ইউনেস্কো শিক্ষায় ব্যয় জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করে থাকে।

গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের নীতিপত্রে শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরিকল্পনার লক্ষ্য বারবার পিছিয়েছে

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৫ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী নীতিগত কাঠামোতে সেই লক্ষ্য আরও পিছিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যমান পার্সপেকটিভ পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে ৪ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি বড় বাধা

গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষাখাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা এবং দুর্বল কর আদায় ব্যবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় অন্যতম নিম্ন। এর ফলে সরকারের পক্ষে শিক্ষাখাতে ব্যয় বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

উন্নয়ন ব্যয় কমছে

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষাখাতে উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিপরীতে পরিচালন ব্যয় এখন বাজেট কাঠামোর বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

গবেষকদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে দেশের নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

ভবিষ্যতের শ্রমবাজার নিয়ে সতর্কতা

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, বাজেট বাস্তবায়ন উন্নত করা এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ২০৩১ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে ব্যয় জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষায় যথেষ্ট বিনিয়োগ না বাড়ালে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।