মিয়ানমারে সামরিক শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। দেশটির জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং শিগগিরই সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদ ছাড়তে পারেন, তবে একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নামমাত্র বেসামরিক সরকার এলেও বাস্তবে সামরিক নিয়ন্ত্রণই বহাল থাকবে।
ক্ষমতার রদবদল, নিয়ন্ত্রণ একই
মার্চের শুরুতেই সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উ-কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, শিগগিরই তিনি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হবেন এবং মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই সামরিক শাসনকে নতুন রূপে প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে দেখছেন। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইয়ে উইন উ সংস্কারপন্থী নন, বরং তিনি জান্তা প্রধানের নির্দেশনাতেই চলবেন।

সহিংসতা ও দমন-পীড়নের বাস্তবতা
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হিসাবে, এ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষ কারাগারে আটক রয়েছেন। জেনারেল ইয়ে উইন উ-র বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
নির্বাচন ও বৈধতার প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক সরকার তিন ধাপে নির্বাচন আয়োজন করে নিজেদের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তবে এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহল ‘স্বাধীন ও সুষ্ঠু নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বড় অংশের জনগণ ও বিরোধী শক্তি এতে অংশ নিতে পারেনি।
এদিকে আঞ্চলিক জোট আসিয়ানও এখনো এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দেয়নি। তবুও সামরিক বাহিনী জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু করেছে, যেখানে সংবিধান অনুযায়ী এক-চতুর্থাংশ আসন সরাসরি সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
গণতন্ত্রের সম্ভাবনা ক্ষীণ
বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হলে তার ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং অবস্থান হবে আরও কঠোর। ইতোমধ্যে তিনি একটি বিশেষ পরামর্শ কাউন্সিল গঠন করেছেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন উভয়ের ওপর নজরদারির ক্ষমতা রাখে।
পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, এটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কোনো পথ তৈরি করছে না, বরং সামরিক শাসনকেই নতুন কাঠামোয় স্থায়ী করার চেষ্টা।

সংঘাতের শেষ কোথায়
দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা এখনো জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বেসামরিক প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তারা সামরিক সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপে যেতে রাজি নয়। একই সময়ে বিমান হামলাসহ সামরিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
ফলে রাজনৈতিক কাঠামোর এই পরিবর্তন বাস্তবে শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনবে—এমন আশা খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















