ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে গিয়ে ইতালিতে উষ্ণ ও আবেগঘন অভ্যর্থনা পেলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস কেট। দুই দিনের এই সফরে তিনি শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। ইতালির ছোট শহর রেজ্জিও এমিলিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই স্থানীয় মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
শহরের টাউন হলের বাইরে শত শত মানুষ প্রিন্সেস কেটকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। অনেকেই ফুল ও উপহার নিয়ে অপেক্ষা করেন তার জন্য। জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান তিনি। একপর্যায়ে মজা করে বলেন, ইতালীয় ভাষা আরও ভালোভাবে শিখতে হবে তার।
সম্মাননা পেলেন প্রিন্সেস কেট
সফরের সময় রেজ্জিও এমিলিয়া শহরের সর্বোচ্চ সম্মান “প্রিমো ত্রিকোলোরে” প্রদান করা হয় প্রিন্সেস কেটকে। শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিয়ে তার দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে “রেজ্জিও এমিলিয়া অ্যাপ্রোচ” নামে পরিচিত শিশু শিক্ষার যে পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে, সেটি ঘিরেই এই সফরের মূল গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া এই শিক্ষা দর্শন সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখাকে গুরুত্ব দেয়।
শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ
প্রিন্সেস কেট ২০২১ সালে “রয়্যাল ফাউন্ডেশন সেন্টার ফর আর্লি চাইল্ডহুড” চালু করেন। এর লক্ষ্য ছিল শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েক বছর কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো। ইতালির এই সফরেও তিনি একই বিষয়কে সামনে নিয়ে আসেন।
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর এই সফর তার জন্য মানসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে তিনি সবসময়ই আনন্দ পান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক সফর বাড়তে পারে।
ক্যানসার জয়ের পর নতুন অধ্যায়
দুই বছরের বেশি সময় আগে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পর প্রিন্সেস কেটের ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি জানান, এখন তিনি ক্যানসারমুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
এই সফরকে তার জীবনের নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, স্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে ওঠার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটিই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর।
ইতালির সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি
প্রিন্সেস কেটের জন্য ইতালি নতুন কোনো দেশ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে কিছু সময় তিনি ফ্লোরেন্সে কাটিয়েছিলেন। সেই পুরোনো স্মৃতিও এই সফরে তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে বলে জানা গেছে।
রেজ্জিও এমিলিয়ার মেয়রও এই সফরকে শহরের জন্য বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শহরের যে দর্শন, সেটি বিশ্বের সামনে আরও বড়ভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সফরের মাধ্যমে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন গতি
কেনসিংটন প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে এখন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান প্রিন্সেস কেট। সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিশুদের শুরুর দিকের যত্ন ও শিক্ষাকে জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে জনসমক্ষে ফেরা প্রিন্সেস কেটের জন্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, রাজপরিবারের ভাবমূর্তির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















