০২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক ‘ঐতিহাসিক’, তবে কি বদলাবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ? ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায় যুক্তরাষ্ট্র শি-ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বার্তা, বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান—চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘স্থিতিশীলতা’ খুঁজছেন দুই নেতা শি-ট্রাম্প বৈঠক: কূটনৈতিক হাসির আড়ালে প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতা ভারতে স্বর্ণে রেকর্ড ছাড়, ভেঙে পড়ল বাজারের চাহিদা বাড়বে চিনির দামঃ ভারতের চিনি রপ্তানি বন্ধ ট্রাম্প-শি বৈঠক ও ইরান যুদ্ধের টানাপোড়েনে বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে এয়ার ইন্ডিয়া, সুযোগ নিচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো ভারতে স্বর্ণের দামে আগুন, রুপির রেকর্ড পতন ও মদের লাইসেন্স বিতর্কে নতুন চাপ সিসকোতে বড় ছাঁটাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জোর দিয়ে আয় বাড়ার আশা

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য অগ্রগতি, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত বৈঠকে বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে বেইজিং। দুই পরাশক্তির এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দুই দিনের এই শীর্ষ বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হলেও সংঘাত হলে ক্ষতি হবে দুই পক্ষেরই।

অন্যদিকে ট্রাম্প বৈঠককে “সম্ভবত সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের ফুল ও পতাকা নাড়তে দেখা যায়।

Trump in Beijing for high-stakes Xi summit to test US strength on trade,  peace | Live Updates from Fox News Digital

তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা

বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাইওয়ান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে পরিস্থিতি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন শি জিনপিং।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য বিশাল সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য সমঝোতার চেষ্টা

বৈঠকের অন্যতম বড় আলোচ্য ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক। গত বছরের অস্থায়ী বাণিজ্য সমঝোতা ধরে রাখতে দুই দেশই আগ্রহী বলে জানা গেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক আলোচনাকে “ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং।

ওয়াশিংটন চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে মার্কিন বিমান, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে চীন উন্নত চিপ প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে চাপ দিচ্ছে।

Xi hails trade progress with Trump, sends Taiwan warning

ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতি

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধানও রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুক উল্লেখযোগ্য। বৈঠক শেষে মাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ছিল “দারুণ”।

ইরান প্রসঙ্গও আলোচনায়

বাণিজ্য ও তাইওয়ানের পাশাপাশি ইরান ইস্যুও আলোচনায় উঠে এসেছে। ট্রাম্প চান, চীন যেন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে সহায়তা করে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কৌশলগত কারণে চীন ইরানের ওপর খুব বেশি চাপ দেবে না।

পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আগের চীন সফরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, শুল্কনীতি নিয়ে আইনি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত ট্রাম্পকে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও শি জিনপিং তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছেন।

এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আনে নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

The Latest: Trump in China for Xi meeting to focus on Iran war, trade and  US arms sales to Taiwan

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক ‘ঐতিহাসিক’, তবে কি বদলাবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ?

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য অগ্রগতি, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা চীনের

১২:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত বৈঠকে বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে বেইজিং। দুই পরাশক্তির এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দুই দিনের এই শীর্ষ বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হলেও সংঘাত হলে ক্ষতি হবে দুই পক্ষেরই।

অন্যদিকে ট্রাম্প বৈঠককে “সম্ভবত সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের ফুল ও পতাকা নাড়তে দেখা যায়।

Trump in Beijing for high-stakes Xi summit to test US strength on trade,  peace | Live Updates from Fox News Digital

তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা

বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাইওয়ান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে পরিস্থিতি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন শি জিনপিং।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য বিশাল সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য সমঝোতার চেষ্টা

বৈঠকের অন্যতম বড় আলোচ্য ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক। গত বছরের অস্থায়ী বাণিজ্য সমঝোতা ধরে রাখতে দুই দেশই আগ্রহী বলে জানা গেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক আলোচনাকে “ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং।

ওয়াশিংটন চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে মার্কিন বিমান, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে চীন উন্নত চিপ প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে চাপ দিচ্ছে।

Xi hails trade progress with Trump, sends Taiwan warning

ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতি

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধানও রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুক উল্লেখযোগ্য। বৈঠক শেষে মাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ছিল “দারুণ”।

ইরান প্রসঙ্গও আলোচনায়

বাণিজ্য ও তাইওয়ানের পাশাপাশি ইরান ইস্যুও আলোচনায় উঠে এসেছে। ট্রাম্প চান, চীন যেন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে সহায়তা করে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কৌশলগত কারণে চীন ইরানের ওপর খুব বেশি চাপ দেবে না।

পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আগের চীন সফরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, শুল্কনীতি নিয়ে আইনি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত ট্রাম্পকে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও শি জিনপিং তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছেন।

এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আনে নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

The Latest: Trump in China for Xi meeting to focus on Iran war, trade and  US arms sales to Taiwan