চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির ধারা থামাতে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন চীনের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ লি চেং।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধু একটি শীর্ষ বৈঠকই দুই দেশের দীর্ঘদিনের জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামো বদলে দিতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করেন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গেলেন।
দিনের শুরুতে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে বসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে শি জিনপিং দুই দেশকে “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার” হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি “থুসিডিডিস ফাঁদ”-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দুই দেশের উচিত দায়িত্বশীলভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা।

শি বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডিডিস ফাঁদ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন ধারা তৈরি করতে পারবে? তারা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারবে? তারা কি দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও মানবজাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে উজ্জ্বল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে?”
এ বছর শি ও ট্রাম্পের আরও কয়েকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেইজিং ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, ২০২৬ সাল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হতে যাচ্ছে।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক চীন ও বিশ্ববিষয়ক কেন্দ্রের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক লি চেং এই বৈঠককে “সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ” এবং “ঐতিহাসিক দিন” হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “গত নয় বছরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বহু সংকট ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে গেছে।” তিনি ২০২০ সালে কনস্যুলেট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ওয়াশিংটনে চীনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার আহ্বানের মতো ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
তবে বৈঠক যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক গতিপথ নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লি বলেন, “একটি শীর্ষ বৈঠক পুরো দিক পরিবর্তন করতে পারে না।”
তার মতে, এই কাঠামোগত উত্তেজনার মূল কারণ হলো ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে বেইজিংয়ের “ক্রমবর্ধমান শক্তি”।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। অভ্যন্তরীণ সংকট, দলীয় বিভাজন এবং বর্ণগত উত্তেজনা দেশটিকে দুর্বল করে তুলেছে। “ফলে তারা ভয় পাচ্ছে। তারা চীনকে খুব ভয় পায়,” বলেন লি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব সমস্যা ও উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে কি না? না, সেগুলো পুরোপুরি শেষ হবে না।”
তবে পরিবর্তনের কিছু ইঙ্গিত দেখা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। লির মতে, ট্রাম্প চীনকে “মহান দেশ” এবং শি জিনপিংকে “মহান নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সম্পর্কের ভাষা বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “চীনকে শত্রু হিসেবে দেখা থেকে বন্ধু হিসেবে দেখার যে পরিবর্তন, এই ভাষা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।”

লি আরও বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি যা সংজ্ঞায়িত করেন, যা বলেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তার ভাষায়, “তিনি শক্তিশালী নেতা। তিনি নিজের উত্তরাধিকার গড়তে চাইবেন এবং যেটিকে সঠিক মনে করেন, সেটিই বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতেও দুই দেশের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন লি চেং।
তিনি বলেন, “এআই খাতে বিশ্বের দুই পরাশক্তি হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দেওয়া এবং অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা।” বিশেষ করে এই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহারের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















