ডলারের দুর্বলতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠক এবং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বিনিয়োগকারীরা এখন নজর রাখছেন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭০৬ ডলারের বেশি। একই সঙ্গে জুন মাসের স্বর্ণ ফিউচারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ডলারের দুর্বলতায় বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে। এর ফলে বাজারে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ আবার বাড়তে শুরু করেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলাফলের জন্য। সেই কারণেই স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাড়তি গুরুত্ব
বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সমঝোতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে এই বৈঠক আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চীনের সহায়তায় ইরান পরিস্থিতিতে অগ্রগতি আনার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সমর্থন পাওয়া সহজ হবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদহার নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্যসূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফনের তথ্য সামনে এসেছে। এপ্রিল মাসে দেশটিতে উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়ছে।
![]()
একই সময়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন পরিবর্তনও বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হার স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি করে। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।
ভারতের বাজারেও চাপ
ভারতে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি দুর্বল চাহিদাও বাজারকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম কমেছে। প্যালাডিয়ামেও সামান্য পতন দেখা গেছে। তবে প্লাটিনামের দাম প্রায় স্থির রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















