যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের একটি ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেজু দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করাই এর প্রধান লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকিতে নজর
‘ফ্রিডম এজ’ নামে পরিচিত এই মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে তিন দেশ। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার হবে। মহড়ায় নৌ ও আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।
২০২৪ সালে এই ত্রিদেশীয় মহড়া শুরু হয়। এরপর থেকে এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ, ডুবোজাহাজবিরোধী অভিযান, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিন দেশের মতে, যৌথ প্রশিক্ষণের ফলে আঞ্চলিক কোনো হুমকির ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়বে।
তবে উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই ধরনের সামরিক মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পিয়ংইয়ং এগুলোকে উসকানিমূলক সামরিক শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং উত্তেজনার মধ্যেই মহড়া
নতুন মহড়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। পিয়ংইয়ং সম্প্রতি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বৈরী নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আলাদা বার্ষিক সামরিক মহড়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের ওই মহড়া গত সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই শেষ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
তবে পিয়ংইয়ং ওই পরিবর্তনকে যথেষ্ট মনে করেনি। উত্তর কোরিয়া সামরিক মহড়ার সমালোচনা অব্যাহত রাখে এবং এর পরপরই নিজেদের সামরিক তৎপরতাও বাড়ায়।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ
গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সমুদ্রের দিকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। এর আগে সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং। ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে সেই হুমকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সময়ে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে, আলোচনায় ফেরার আগে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে—যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানও পিয়ংইয়ং প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ফলে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নতুন সামরিক মহড়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টাও আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Sarakhon Report 



















