হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে হাম-সংক্রান্ত নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া পাঁচজনকেই সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে দেশে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৬১। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে, ৯৯ জনে।
২৪ ঘণ্টায় নতুন সন্দেহভাজন রোগী ১১০০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ১০০ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি বছরে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনে।
এ সময় নতুন করে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৭০ জন। এতে দেশে চলতি বছরে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।
হাম পরিস্থিতির এই পরিসংখ্যানে একদিকে যেমন সন্দেহভাজন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়ে উঠছেন। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেশে হামজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর হিসাব আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে। সর্বশেষ পাঁচ মৃত্যুকেই সন্দেহভাজন হিসেবে গণনা করায় নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ জনেই রয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যেও সন্দেহভাজন ও পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা পৃথকভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতির এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যেই দেশে হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ এবং মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















