দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা শেষে চাকরি করে দেশটিতে থেকে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের (HYU) গ্লোবাল ক্যারিয়ার ফেয়ার। গত বছরের আগস্টে শুরু হওয়া এই চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোরীয় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণও দ্রুত বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার সিউলের সিওংডং জেলার হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় HYU Global Career Fair-এ অংশ নেন ২ হাজার ৫২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৫টি কোম্পানি। গত বছরের প্রথম আয়োজনে ৫৬০ জন শিক্ষার্থী ও ১১টি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে দ্বিতীয় আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২১ জন এবং কোম্পানি ছিল ২৬টি।
ক্যারিয়ারের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার সুযোগ
ইন্দোনেশিয়ার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেলিনা ক্রিসান্তা অ্যান্টোলিস গত বছর পর্যন্ত কোরিয়ায় কোন কোম্পানিতে বা কোন পদে কাজ করতে চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন না। প্রথম ক্যারিয়ার মেলায় বিভিন্ন কোম্পানির নিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পর বদলে যায় তার ভাবনা।
মেলায় অংশ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, বিজ্ঞাপন প্রচারণা পরিকল্পনা করা একজন গ্লোবাল মার্কেটার হিসেবে কাজ করাই তার কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার। সেই লক্ষ্য নিয়েই এবারও মেলায় ফিরে এসেছেন তিনি।
অ্যান্টোলিসের মতে, অনলাইনে চাকরির তথ্য খুঁজলে নিয়োগদাতাকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু চাকরি মেলায় কোম্পানির প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি জানা যায় এবং ভবিষ্যতে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে
হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভর্তি কার্যালয়ের পরিচালক কিম হিউন-জু জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে চাকরি এবং শেষ পর্যন্ত কোরিয়ায় বসবাসের পথ তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ উদ্যোগের অংশ।
আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিউল ও আনসান ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯ জন। চার বছর মেয়াদি কোরীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।
কিম বলেন, হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণের প্রচেষ্টা অন্তত ৩০ বছর ধরে চলছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এখন কর্মসংস্থান ও কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৪৬৪-এ পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৮ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর করা এক জরিপে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তারা পড়াশোনা শেষে কোরিয়ায় থেকে যেতে চান।
কোম্পানিরাও দেখছে নতুন প্রতিভার সম্ভাবনা
ভারতের ২৬ বছর বয়সী নাভেনা তাদেরই একজন। প্রজেক্ট ম্যানেজার হতে আগ্রহী এই শিক্ষার্থী গত বছরের অভিজ্ঞতার পর এবারও মেলায় অংশ নেন। তার ভাষায়, মেলায় এসে তিনি এমন অনেক ব্যবসা ও চাকরির ক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যেগুলোর অস্তিত্ব আগে জানতেন না।
হোবান কনস্ট্রাকশনের ডেপুটি ম্যানেজার কিম মিন-আ জানান, এবারই প্রথম কোম্পানিটি মেলায় অংশ নিয়েছে। কোরিয়ার নির্মাণ খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মোবাইল ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম হ্যানপাসের সহযোগী লি ইয়ং-জে বলেন, মেলা কোম্পানির সম্ভাব্য কর্মীর পরিধি বাড়ায়। কোনো প্রার্থী একটি বিভাগে নিয়োগের উপযুক্ত হলেও সেখানে সুযোগ না থাকলে তাকে অন্য বিভাগের জন্য সুপারিশ করার সুযোগ থাকে।
হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার মেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘HY All-Care System’ চালু করেছে। এর আওতায় কোম্পানি পরিদর্শন, অতিথি বক্তৃতা, চাকরি ক্যাম্প, কাউন্সেলিং ও ইন্টার্নশিপের মতো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কিম হান-সুং বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা শুধু ভর্তি বা একাডেমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান ও কোরিয়ায় বসবাসের প্রস্তুতিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও কোম্পানিগুলোর যোগাযোগের সুযোগ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ বিষয় ও বৈশ্বিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কোরিয়ার সমাজ ও শিল্পখাতে এগিয়ে যেতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















