ইসলামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মঙ্গলবার আদিয়ালা কারাগারে দেখা করেছেন তাঁর বোন নূরিন নিয়াজি। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো।
ইমরান খানের মে মাসে করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সপ্তাহে একবার সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনার পর ইমরান খানের পরিবার আদালতকে আশ্বস্ত করেছিল যে, সাক্ষাতের পর তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলবে না।
প্রায় ৪৫ মিনিটের সাক্ষাৎ
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের আইনজীবী আওয়াইস ইউনূস চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নূরিন নিয়াজির সঙ্গে ইমরান খানের প্রায় ৪৫ মিনিট সাক্ষাৎ হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগে বুশরা বিবির পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর নূরিন নিয়াজিকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
আইনজীবী বলেন, ইমরানের অন্য দুই বোনও গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। নূরিন কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর তিন বোনই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলে সেখান থেকে চলে যান।
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার কথা জানিয়ে আওয়াইস ইউনূস চৌধুরী বলেন, তাঁর দল আদালতের দেওয়া নির্দেশ ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করছে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবারও নূরিন নিয়াজি কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।![]()
আদালতের ভূমিকার প্রশংসা
ইমরানের আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে মূলত আদালতের হস্তক্ষেপের কারণেই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে এবং ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর করবে। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তাঁকে পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সরকারের পদক্ষেপ ছিল ভিন্ন। আদালতের নির্দেশের পর ইমরান খানকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তখন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই সিদ্ধান্তের জন্য হাসপাতালের পথে এবং হাসপাতালের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের কর্মীদের তৈরি করা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দায়ী করেছিলেন।
সাক্ষাৎ নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ
ইমরান খানের পরিবারের সদস্য ও তাঁর দল দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে অভিযোগ করে আসছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ককে ২৪ মার্চের একটি আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে ইমরান খানের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছিল।
তবে ইমরানের পরিবার ও দল পরবর্তী সময়ে একাধিকবার কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাধাগ্রস্ত ও ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
সর্বশেষ মঙ্গলবারের সাক্ষাৎকে ইমরান খানের পরিবার ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ অব্যাহত থাকে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
Sarakhon Report 



















