০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
নেপাল-তিব্বত আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩০০ ভারতীয়, স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুই নারীও নিখোঁজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে উদযাপনের মতো তেমন কিছু নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কায় বিশ্ব ভয়াবহ পরিবর্তনের মুখে, প্রস্তুতি নেই: বিল গেটস টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে কারফিউ ও দৈনিক সময়সীমা পাঞ্জাবে ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা আরও বিস্তৃত, বসছে পাঁচ নতুন ক্রায়োঅ্যাবলেশন যন্ত্র মানুষের উপস্থিতিতে বদলে যায় বন্যপ্রাণীর আচরণ, ৪,৫০০ প্রাণীর গবেষণায় নতুন তথ্য হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরির সেতুবন্ধন, ক্যারিয়ার মেলায় রেকর্ড অংশগ্রহণ অর্থনীতি ভালো দেখালেও কেন স্বস্তিতে নেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ নেপালের ভোতে কোশি: বন্যা নয়, প্রস্তুতির ঘাটতিই বড় বিপদ

পূর্ণিমার আকাশে রক্তিম ছায়া, চাঁদের মুখে রহস্যময় আলোর খেলা

রাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ মানেই এক অন্যরকম মায়া। চারপাশের অন্ধকারকে নরম রুপালি আলোয় ভাসিয়ে দিয়ে পূর্ণ চাঁদ যখন আকাশের বুকে উঠে আসে, তখন প্রকৃতিও যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায়। আগস্টের সেই পূর্ণিমায় এবার সেই চেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাজাগতিক এক বিরল আবহ—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।

চাঁদের উজ্জ্বল মুখে ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়া এসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় তার চেহারা। একসময় ঝকঝকে সাদা আলোয় ভরা চাঁদের একটি অংশ যেন অদৃশ্য কোনো পর্দার আড়ালে চলে যায়। আলোর সেই ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসা দৃশ্য রাতের আকাশকে করে তোলে আরও রহস্যময়, আরও গভীর।

চন্দ্রগ্রহণের মুহূর্তে চাঁদের গায়ে দেখা দিতে পারে তামাটে কিংবা লালচে আভা। সেই রক্তিম ছায়ার কারণেই এমন দৃশ্য মানুষের কল্পনায় বহুদিন ধরে ‘রক্তচাঁদ’ নামে পরিচিত। চাঁদ তখন আর শুধু রাতের আকাশের একটি জ্যোতিষ্ক থাকে না; মনে হয়, মহাশূন্যের বিশাল ক্যানভাসে কেউ ধীরে ধীরে তুলির আঁচড় টেনে দিচ্ছে।

তবে এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে নিখুঁত মহাজাগতিক নিয়ম। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। আংশিক গ্রহণের ক্ষেত্রে চাঁদের কেবল একটি অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে একই সঙ্গে চাঁদের একাংশ থাকে উজ্জ্বল, আর অন্য অংশ ঢেকে যায় পৃথিবীর ছায়ায়।Earth's shadow will swallow the full Moon Thursday night in a partial lunar  eclipse

পূর্ণিমার এই দৃশ্যের সৌন্দর্য শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চোখেই ধরা পড়ে না; এর সঙ্গে মিশে আছে বহু প্রজন্মের সংস্কৃতি ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের ইতিহাস। বছরের বিভিন্ন পূর্ণিমার যেমন আলাদা নাম রয়েছে, তেমনি এসব নামের পেছনে রয়েছে ঋতু, কৃষিকাজ, প্রাণী ও প্রকৃতির পরিবর্তনের গল্প।

আগস্টের পূর্ণিমার নাম ‘স্টার্জন চাঁদ’—উত্তর আমেরিকার নদীগুলোতে এই সময় স্টার্জন মাছের প্রাচুর্য দেখা যেত বলেই এমন নামের প্রচলন। অর্থাৎ আকাশের চাঁদকে ঘিরেও মানুষের জীবন, নদী, মাছ, ফসল আর ঋতুর গল্প যুগ যুগ ধরে জড়িয়ে রয়েছে।

আর তাই একটি পূর্ণিমার রাত কেবল জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়ার রাত নয়। এটি পৃথিবী ও মহাশূন্যের সম্পর্ক অনুভব করারও এক অনন্য মুহূর্ত। চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া পড়ার সেই ধীর দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়—আমরা যে পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিও আসলে এক বিশাল মহাজাগতিক নৃত্যের অংশ।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে এমন রাতে শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে কিছুক্ষণ শুধু চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকাই যথেষ্ট। রুপালি আলো, ধীরে নেমে আসা ছায়া আর লালচে আভায় বদলে যাওয়া চাঁদ—সব মিলিয়ে আগস্টের পূর্ণিমা হয়ে ওঠে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা এক ক্ষণস্থায়ী ছবি। কয়েক ঘণ্টার সেই দৃশ্য পেরিয়ে গেলে চাঁদ আবার ফিরে যায় তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায়, কিন্তু রাতের আকাশে রেখে যায় এক অপূর্ব স্মৃতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল-তিব্বত আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩০০ ভারতীয়, স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুই নারীও নিখোঁজ

পূর্ণিমার আকাশে রক্তিম ছায়া, চাঁদের মুখে রহস্যময় আলোর খেলা

০৬:০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ মানেই এক অন্যরকম মায়া। চারপাশের অন্ধকারকে নরম রুপালি আলোয় ভাসিয়ে দিয়ে পূর্ণ চাঁদ যখন আকাশের বুকে উঠে আসে, তখন প্রকৃতিও যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায়। আগস্টের সেই পূর্ণিমায় এবার সেই চেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাজাগতিক এক বিরল আবহ—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।

চাঁদের উজ্জ্বল মুখে ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়া এসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় তার চেহারা। একসময় ঝকঝকে সাদা আলোয় ভরা চাঁদের একটি অংশ যেন অদৃশ্য কোনো পর্দার আড়ালে চলে যায়। আলোর সেই ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসা দৃশ্য রাতের আকাশকে করে তোলে আরও রহস্যময়, আরও গভীর।

চন্দ্রগ্রহণের মুহূর্তে চাঁদের গায়ে দেখা দিতে পারে তামাটে কিংবা লালচে আভা। সেই রক্তিম ছায়ার কারণেই এমন দৃশ্য মানুষের কল্পনায় বহুদিন ধরে ‘রক্তচাঁদ’ নামে পরিচিত। চাঁদ তখন আর শুধু রাতের আকাশের একটি জ্যোতিষ্ক থাকে না; মনে হয়, মহাশূন্যের বিশাল ক্যানভাসে কেউ ধীরে ধীরে তুলির আঁচড় টেনে দিচ্ছে।

তবে এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে নিখুঁত মহাজাগতিক নিয়ম। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। আংশিক গ্রহণের ক্ষেত্রে চাঁদের কেবল একটি অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে একই সঙ্গে চাঁদের একাংশ থাকে উজ্জ্বল, আর অন্য অংশ ঢেকে যায় পৃথিবীর ছায়ায়।Earth's shadow will swallow the full Moon Thursday night in a partial lunar  eclipse

পূর্ণিমার এই দৃশ্যের সৌন্দর্য শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চোখেই ধরা পড়ে না; এর সঙ্গে মিশে আছে বহু প্রজন্মের সংস্কৃতি ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের ইতিহাস। বছরের বিভিন্ন পূর্ণিমার যেমন আলাদা নাম রয়েছে, তেমনি এসব নামের পেছনে রয়েছে ঋতু, কৃষিকাজ, প্রাণী ও প্রকৃতির পরিবর্তনের গল্প।

আগস্টের পূর্ণিমার নাম ‘স্টার্জন চাঁদ’—উত্তর আমেরিকার নদীগুলোতে এই সময় স্টার্জন মাছের প্রাচুর্য দেখা যেত বলেই এমন নামের প্রচলন। অর্থাৎ আকাশের চাঁদকে ঘিরেও মানুষের জীবন, নদী, মাছ, ফসল আর ঋতুর গল্প যুগ যুগ ধরে জড়িয়ে রয়েছে।

আর তাই একটি পূর্ণিমার রাত কেবল জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়ার রাত নয়। এটি পৃথিবী ও মহাশূন্যের সম্পর্ক অনুভব করারও এক অনন্য মুহূর্ত। চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া পড়ার সেই ধীর দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়—আমরা যে পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিও আসলে এক বিশাল মহাজাগতিক নৃত্যের অংশ।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে এমন রাতে শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে কিছুক্ষণ শুধু চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকাই যথেষ্ট। রুপালি আলো, ধীরে নেমে আসা ছায়া আর লালচে আভায় বদলে যাওয়া চাঁদ—সব মিলিয়ে আগস্টের পূর্ণিমা হয়ে ওঠে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা এক ক্ষণস্থায়ী ছবি। কয়েক ঘণ্টার সেই দৃশ্য পেরিয়ে গেলে চাঁদ আবার ফিরে যায় তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায়, কিন্তু রাতের আকাশে রেখে যায় এক অপূর্ব স্মৃতি।