০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে কারফিউ ও দৈনিক সময়সীমা পাঞ্জাবে ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা আরও বিস্তৃত, বসছে পাঁচ নতুন ক্রায়োঅ্যাবলেশন যন্ত্র মানুষের উপস্থিতিতে বদলে যায় বন্যপ্রাণীর আচরণ, ৪,৫০০ প্রাণীর গবেষণায় নতুন তথ্য হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরির সেতুবন্ধন, ক্যারিয়ার মেলায় রেকর্ড অংশগ্রহণ অর্থনীতি ভালো দেখালেও কেন স্বস্তিতে নেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ নেপালের ভোতে কোশি: বন্যা নয়, প্রস্তুতির ঘাটতিই বড় বিপদ জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন: স্বচ্ছতার দাবিতে মিসরের কূটনৈতিক চাপ নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যা: বাড়ছে মরদেহ উদ্ধারের চাপ বন্যার্তদের একা ফেলে রাখার সময় নয়

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে সরাসরি মালিকানা অংশীদারত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভেনেজুয়েলার এক ডজনেরও বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা অংশীদারত্ব তৈরি হতে পারে।

 

Image

 

Image

 

একাধিক তেলক্ষেত্রে মালিকানার সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় থাকা তেলক্ষেত্রগুলোতে আনুমানিক ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদে মার্কিন অংশীদারত্ব তৈরি হলে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে যুক্ত হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলোও এসব প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। উৎপাদন বাড়লে ভেনেজুয়েলা অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে, যা দেশটির দুর্বল অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রুবিও-দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে আলোচনা

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

ওয়াশিংটন চাইছে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটি যেন ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যও অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে। বিদেশি কোনো শক্তি ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে—এমন আশঙ্কা যাতে না তৈরি হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনো চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, মালিকানার পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি স্পষ্ট নয়।

ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সফরে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত ভেনেজুয়েলায় থাকলেও দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশটির তেলশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ এ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও বর্তমানে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতা ওয়াশিংটনের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে দেশটির তেলশিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগকে বৃহত্তর জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। নতুন আলোচনা সেই প্রক্রিয়াকে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

০৫:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে সরাসরি মালিকানা অংশীদারত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভেনেজুয়েলার এক ডজনেরও বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা অংশীদারত্ব তৈরি হতে পারে।

 

Image

 

Image

 

একাধিক তেলক্ষেত্রে মালিকানার সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় থাকা তেলক্ষেত্রগুলোতে আনুমানিক ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদে মার্কিন অংশীদারত্ব তৈরি হলে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে যুক্ত হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলোও এসব প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। উৎপাদন বাড়লে ভেনেজুয়েলা অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে, যা দেশটির দুর্বল অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রুবিও-দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে আলোচনা

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

ওয়াশিংটন চাইছে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটি যেন ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যও অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে। বিদেশি কোনো শক্তি ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে—এমন আশঙ্কা যাতে না তৈরি হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনো চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, মালিকানার পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি স্পষ্ট নয়।

ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সফরে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত ভেনেজুয়েলায় থাকলেও দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশটির তেলশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ এ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও বর্তমানে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতা ওয়াশিংটনের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে দেশটির তেলশিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগকে বৃহত্তর জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। নতুন আলোচনা সেই প্রক্রিয়াকে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।