০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
১০ দিনের বিরতির পর ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এক দিনেই যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০ অভিবাসী লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের চার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ, দোষ স্বীকার চার তরুণের নেপাল-তিব্বত আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩০০ ভারতীয়, স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুই নারীও নিখোঁজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে উদযাপনের মতো তেমন কিছু নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কায় বিশ্ব ভয়াবহ পরিবর্তনের মুখে, প্রস্তুতি নেই: বিল গেটস টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে কারফিউ ও দৈনিক সময়সীমা পাঞ্জাবে ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা আরও বিস্তৃত, বসছে পাঁচ নতুন ক্রায়োঅ্যাবলেশন যন্ত্র মানুষের উপস্থিতিতে বদলে যায় বন্যপ্রাণীর আচরণ, ৪,৫০০ প্রাণীর গবেষণায় নতুন তথ্য হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরির সেতুবন্ধন, ক্যারিয়ার মেলায় রেকর্ড অংশগ্রহণ

কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ

কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের জন্য সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি আরও ১ লাখ ২০ হাজার টন সার কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সম্প্রতি সরকারি পর্যায়ে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কানাডা থেকে পটাশ সার আমদানি করা হবে।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তি

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কানাডার পক্ষে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) সই করেছে। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সালিম খান, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্যানপোটেক্স ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

কানাডার হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার পটাশ বাণিজ্য ও অংশীদারত্বের সম্পর্ক ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের। ২০১৪ সাল থেকে সরকারি পর্যায়ের ব্যবস্থায় কানাডা থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ লাখ টন পটাশ সার সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্ব

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সালিম খান কৃষকদের জন্য মানসম্মত সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, প্রয়োজনের সময়ে বিশ্বের উচ্চমানের পটাশ সার সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পেরে কানাডা গর্বিত। তাঁর মতে, নতুন চুক্তি দুই দেশের ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

কানাডার পটাশের বৈশ্বিক অবস্থান

কানাডার পটাশ সার উচ্চমান, ধারাবাহিক গুণগত মান এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির সাসকাচেওয়ান প্রদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক পটাশ মজুত এবং উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

কানাডার হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানপোটেক্স ও সরকারি পর্যায়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ আরও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করতে পারে।

কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ

পটাশ সার আমদানির পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এর মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন, কোল্ড-চেইন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, জেনেটিকস, জৈবসার, টেকসই ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, গবেষণা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মতো ক্ষেত্র রয়েছে।

কানাডার প্রত্যাশা, এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা ও সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ; ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ দিনের বিরতির পর ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এক দিনেই যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০ অভিবাসী

কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ

০৬:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের জন্য সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি আরও ১ লাখ ২০ হাজার টন সার কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সম্প্রতি সরকারি পর্যায়ে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কানাডা থেকে পটাশ সার আমদানি করা হবে।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তি

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কানাডার পক্ষে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) সই করেছে। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সালিম খান, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্যানপোটেক্স ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

কানাডার হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার পটাশ বাণিজ্য ও অংশীদারত্বের সম্পর্ক ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের। ২০১৪ সাল থেকে সরকারি পর্যায়ের ব্যবস্থায় কানাডা থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ লাখ টন পটাশ সার সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্ব

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সালিম খান কৃষকদের জন্য মানসম্মত সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, প্রয়োজনের সময়ে বিশ্বের উচ্চমানের পটাশ সার সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পেরে কানাডা গর্বিত। তাঁর মতে, নতুন চুক্তি দুই দেশের ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

কানাডার পটাশের বৈশ্বিক অবস্থান

কানাডার পটাশ সার উচ্চমান, ধারাবাহিক গুণগত মান এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির সাসকাচেওয়ান প্রদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক পটাশ মজুত এবং উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

কানাডার হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানপোটেক্স ও সরকারি পর্যায়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ আরও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করতে পারে।

কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ

পটাশ সার আমদানির পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এর মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন, কোল্ড-চেইন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, জেনেটিকস, জৈবসার, টেকসই ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, গবেষণা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মতো ক্ষেত্র রয়েছে।

কানাডার প্রত্যাশা, এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা ও সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ; ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা।