০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে কড়াকড়ি পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে বাজারে বোমা বিস্ফোরণ, শান্তি কমিটির সদস্য নিহত; আহত ৮ পূর্ণিমার আকাশে রক্তিম ছায়া, চাঁদের মুখে রহস্যময় আলোর খেলা পাকিস্তানে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ চালু, এবার বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষা হামজাতঙ্কে বাড়ছে হাম: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৯৬০ ইসরায়েল-তুরস্ক দ্বন্দ্বে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বাংলাদেশের প্রজন্ম-জেড পাকিস্তানি গান এত বেশি পছন্দ করে কেন

ছয় মাস ধরে আড়ালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে সংশয়

ইরানে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা বা তার কণ্ঠ শোনা যায়নি। যুদ্ধের শুরুতে গুরুতর আহত হওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়া মোজতবার এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তিনি এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না এবং আড়াল থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত আছেন। তবে তার কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা সরাসরি প্রচারিত বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সমর্থকদের মধ্যেও সন্দেহ বাড়ছে।

প্রকাশ্যে নেই কোনো চিহ্ন

যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের উদ্দেশে সরাসরি কোনো বক্তব্য আসেনি। তার নামে প্রকাশিত কয়েকটি লিখিত বিবৃতি শুধু সংবাদমাধ্যমে পড়ে শোনানো হয়েছে।

এমনকি গত মাসে তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক আয়োজনেও মোজতবাকে দেখা যায়নি। ফলে তার শারীরিক অবস্থা এবং তিনি বাস্তবে কতটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত—এ নিয়ে আলোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হত্যার আশঙ্কায় মোজতবাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। অল্প কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সরাসরি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন। তিনি নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, রাষ্ট্রীয় নানা বিষয়ে প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং বড় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত মত দিচ্ছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও গত ১০ আগস্ট জানিয়েছিলেন, মোজতবার সঙ্গে তিনি প্রায় সাত ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন।

সমর্থকদের মধ্যেও বাড়ছে অস্বস্তি

মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে সংশয় শুধু সরকারবিরোধীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের কট্টরপন্থী সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

কোম শহরের এক বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক সদস্য বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠ শোনা কিংবা অন্তত তিনি দেশের শীর্ষে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন—এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, মোজতবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন, কিন্তু একটি ছবিও প্রকাশ না হওয়া মানুষের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে সংস্কারপন্থীদের সন্দেহ আরও সরাসরি। তেহরানের এক ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলেছেন, মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, সেটিই বা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। তার মতে, তিনি বেঁচে আছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত—এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ না থাকা স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়।

ক্ষমতার কেন্দ্রে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী

ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও এখন পর্যন্ত দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। সামরিক বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুনর্গঠিত ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে ঘিরে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি বলয় তৈরি হয়েছে। সেখানে রক্ষীবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন।

ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোজতবা এসব শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। বড় সিদ্ধান্তে তার অনুমোদনই চূড়ান্ত বলে তারা জানিয়েছেন।

যুদ্ধের চাপে অর্থনীতি

রাজনৈতিক কাঠামো টিকে থাকলেও দীর্ঘ যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য ইরানের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কয়েক মাস ধরে তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে এবং মুদ্রা রিয়ালের মূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় যুক্ত হয়ে নতুন করে গণবিক্ষোভের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বছরের শুরুতে ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এখন ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্ষমতাসীনদের সামনে তাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নেওয়া থেকে ঠেকানো।

অনুপস্থিতিই কি হয়ে উঠছে ঝুঁকি?

যুদ্ধের আগে মোজতবা খামেনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকেই কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রকাশ্য রাজনীতিতে তার উপস্থিতিও খুব সীমিত ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

এখন তিনি এমন একটি পদে রয়েছেন, যেটিকে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আর সেই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকটের সময়েই তার দৃশ্যমান অনুপস্থিতি প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার সুস্পষ্ট অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেতা প্রকাশ্যে না থাকলে বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্র নিজেদের মতো করে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

ফলে মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কানাডা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন পটাশ সার আমদানি করবে বাংলাদেশ

ছয় মাস ধরে আড়ালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে সংশয়

০৪:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ইরানে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা বা তার কণ্ঠ শোনা যায়নি। যুদ্ধের শুরুতে গুরুতর আহত হওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়া মোজতবার এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তিনি এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না এবং আড়াল থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত আছেন। তবে তার কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা সরাসরি প্রচারিত বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সমর্থকদের মধ্যেও সন্দেহ বাড়ছে।

প্রকাশ্যে নেই কোনো চিহ্ন

যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের উদ্দেশে সরাসরি কোনো বক্তব্য আসেনি। তার নামে প্রকাশিত কয়েকটি লিখিত বিবৃতি শুধু সংবাদমাধ্যমে পড়ে শোনানো হয়েছে।

এমনকি গত মাসে তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক আয়োজনেও মোজতবাকে দেখা যায়নি। ফলে তার শারীরিক অবস্থা এবং তিনি বাস্তবে কতটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত—এ নিয়ে আলোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হত্যার আশঙ্কায় মোজতবাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। অল্প কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সরাসরি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন। তিনি নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, রাষ্ট্রীয় নানা বিষয়ে প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং বড় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত মত দিচ্ছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও গত ১০ আগস্ট জানিয়েছিলেন, মোজতবার সঙ্গে তিনি প্রায় সাত ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন।

সমর্থকদের মধ্যেও বাড়ছে অস্বস্তি

মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে সংশয় শুধু সরকারবিরোধীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের কট্টরপন্থী সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

কোম শহরের এক বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক সদস্য বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠ শোনা কিংবা অন্তত তিনি দেশের শীর্ষে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন—এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, মোজতবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন, কিন্তু একটি ছবিও প্রকাশ না হওয়া মানুষের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে সংস্কারপন্থীদের সন্দেহ আরও সরাসরি। তেহরানের এক ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলেছেন, মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, সেটিই বা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। তার মতে, তিনি বেঁচে আছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত—এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ না থাকা স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়।

ক্ষমতার কেন্দ্রে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী

ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও এখন পর্যন্ত দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। সামরিক বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুনর্গঠিত ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে ঘিরে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি বলয় তৈরি হয়েছে। সেখানে রক্ষীবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন।

ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোজতবা এসব শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। বড় সিদ্ধান্তে তার অনুমোদনই চূড়ান্ত বলে তারা জানিয়েছেন।

যুদ্ধের চাপে অর্থনীতি

রাজনৈতিক কাঠামো টিকে থাকলেও দীর্ঘ যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য ইরানের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কয়েক মাস ধরে তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে এবং মুদ্রা রিয়ালের মূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় যুক্ত হয়ে নতুন করে গণবিক্ষোভের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বছরের শুরুতে ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এখন ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্ষমতাসীনদের সামনে তাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নেওয়া থেকে ঠেকানো।

অনুপস্থিতিই কি হয়ে উঠছে ঝুঁকি?

যুদ্ধের আগে মোজতবা খামেনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকেই কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রকাশ্য রাজনীতিতে তার উপস্থিতিও খুব সীমিত ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

এখন তিনি এমন একটি পদে রয়েছেন, যেটিকে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আর সেই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকটের সময়েই তার দৃশ্যমান অনুপস্থিতি প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার সুস্পষ্ট অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেতা প্রকাশ্যে না থাকলে বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্র নিজেদের মতো করে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

ফলে মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।