দেশের বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হঠাৎ করেই চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটি থেকে চিনি রপ্তানি বন্ধ থাকবে। বিশ্বের অন্যতম বড় চিনি উৎপাদনকারী দেশের এমন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যেই দামের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে কাঁচা ও পরিশোধিত চিনির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
দেশীয় বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা
ভারত সরকার মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে। সে কারণেই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের প্রধান আখ উৎপাদন অঞ্চলে ফলন কমে যাওয়ার খবর আসছিল। এতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রপ্তানির আগের অনুমোদন নিয়ে জটিলতা
এর আগে ভারত সরকার চিনি কলগুলোকে প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, দেশীয় চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত চিনি থাকবে। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায়।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত পরিমাণের মধ্যে প্রায় ৮ লাখ টনের রপ্তানি চুক্তি হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৬ লাখ টনের বেশি চিনি ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
তবে সরকার জানিয়েছে, যেসব চালানের লোডিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বা বন্দরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলো বিশেষ শর্তে রপ্তানির অনুমতি পাবে।
![]()
বিশ্ববাজারে দামের প্রতিক্রিয়া
ভারতের ঘোষণা আসার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। নিউইয়র্কের কাঁচা চিনির বাজারে দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে লন্ডনের সাদা চিনির বাজারেও প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দেশটি রপ্তানি বন্ধ করলে সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে মূল্য অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ভারতের চিনি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে দামের চাপ বেড়েছে। দেশীয় বাজার সামলাতে নেওয়া এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















