০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন দিল্লিতে গ্রেপ্তার ‘দ্য স্কিন ডক্টর’, কপুর পরিবারের বিরুদ্ধে পোস্ট ঘিরে বিতর্ক নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তোলপাড় ভারত, অনিশ্চয়তায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ দিল্লিতে চলন্ত বাসে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার চালক-সহকারী চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক ‘ঐতিহাসিক’, তবে কি বদলাবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ? ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায় যুক্তরাষ্ট্র শি-ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বার্তা, বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান—চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘স্থিতিশীলতা’ খুঁজছেন দুই নেতা

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে এয়ার ইন্ডিয়া, সুযোগ নিচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো

ইরান যুদ্ধ, আকাশপথের সীমাবদ্ধতা এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে বড় ধরনের চাপে পড়েছে ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দ্রুত ভারতীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো।

বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান বাজারগুলোর একটি এখন ভারত। আর সেই বাজারে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট কমে যাওয়ায় যাত্রী টানতে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইনগুলো। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী যাত্রীদের লক্ষ্য করে বাড়ানো হচ্ছে ফ্লাইট সংখ্যা।

বিদেশি সংস্থার দখল বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি বিমান সংস্থার অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। এক বছর আগেও এই হার ছিল অনেক কম। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Air India Express plane moved from Bahrain amid Iran attack threats - The  Economic Times

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রগামী রুটে। দিল্লি থেকে শিকাগোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় যাত্রা সময়ও বেড়েছে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়া নিজেদের আধুনিক বৈশ্বিক বিমান সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনাকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

যুদ্ধ ও আকাশপথ সংকটে খরচ বেড়েছে

ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় ভারতীয় বিমানগুলোকে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়েছে এবং অনেক রুট অলাভজনক হয়ে উঠছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম থেকেই তাদের আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু এখন সেই খাতেই চাপ বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘ রুট এবং সীমিত আকাশপথ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Indian Airlines to Avoid Iranian Airspace Amid US-Iran Tensions

বিদেশি সংস্থার বাড়তি আগ্রহ

এই সুযোগে ইউরোপীয় ও এশীয় বিমান সংস্থাগুলো ভারতীয় বাজারে নতুন ফ্লাইট যোগ করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি বড় বিমান সংস্থা দিল্লি-জুরিখ রুটে অতিরিক্ত দৈনিক ফ্লাইট চালু করেছে। একইভাবে হংকংভিত্তিক একটি এয়ারলাইনও ভারত থেকে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

অনেক ভারতীয় যাত্রী আগে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বিকল্প রুট খুঁজছেন। সেই চাহিদা কাজে লাগাতে চাইছে বিদেশি সংস্থাগুলো।

যাত্রীদের পছন্দেও পরিবর্তন

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে সরাসরি ফ্লাইটের কারণে অনেক যাত্রী এয়ার ইন্ডিয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন। কিন্তু এখন যদি বিদেশি বিমান সংস্থার ভাড়া কাছাকাছি হয় এবং যাত্রা সময় কম হয়, তাহলে যাত্রীরা বিদেশি সংস্থার দিকেই ঝুঁকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আন্তর্জাতিক বিমান বাজার আগামী কয়েক বছর আরও বড় হবে। কিন্তু সেই বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে এয়ার ইন্ডিয়াকে দ্রুত সংকট সামাল দিতে হবে। নইলে বিদেশি সংস্থাগুলো আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে এয়ার ইন্ডিয়া, সুযোগ নিচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো

০১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ, আকাশপথের সীমাবদ্ধতা এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে বড় ধরনের চাপে পড়েছে ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দ্রুত ভারতীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো।

বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান বাজারগুলোর একটি এখন ভারত। আর সেই বাজারে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট কমে যাওয়ায় যাত্রী টানতে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইনগুলো। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী যাত্রীদের লক্ষ্য করে বাড়ানো হচ্ছে ফ্লাইট সংখ্যা।

বিদেশি সংস্থার দখল বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি বিমান সংস্থার অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। এক বছর আগেও এই হার ছিল অনেক কম। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Air India Express plane moved from Bahrain amid Iran attack threats - The  Economic Times

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রগামী রুটে। দিল্লি থেকে শিকাগোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় যাত্রা সময়ও বেড়েছে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়া নিজেদের আধুনিক বৈশ্বিক বিমান সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনাকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

যুদ্ধ ও আকাশপথ সংকটে খরচ বেড়েছে

ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় ভারতীয় বিমানগুলোকে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়েছে এবং অনেক রুট অলাভজনক হয়ে উঠছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম থেকেই তাদের আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু এখন সেই খাতেই চাপ বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘ রুট এবং সীমিত আকাশপথ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Indian Airlines to Avoid Iranian Airspace Amid US-Iran Tensions

বিদেশি সংস্থার বাড়তি আগ্রহ

এই সুযোগে ইউরোপীয় ও এশীয় বিমান সংস্থাগুলো ভারতীয় বাজারে নতুন ফ্লাইট যোগ করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি বড় বিমান সংস্থা দিল্লি-জুরিখ রুটে অতিরিক্ত দৈনিক ফ্লাইট চালু করেছে। একইভাবে হংকংভিত্তিক একটি এয়ারলাইনও ভারত থেকে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

অনেক ভারতীয় যাত্রী আগে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বিকল্প রুট খুঁজছেন। সেই চাহিদা কাজে লাগাতে চাইছে বিদেশি সংস্থাগুলো।

যাত্রীদের পছন্দেও পরিবর্তন

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে সরাসরি ফ্লাইটের কারণে অনেক যাত্রী এয়ার ইন্ডিয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন। কিন্তু এখন যদি বিদেশি বিমান সংস্থার ভাড়া কাছাকাছি হয় এবং যাত্রা সময় কম হয়, তাহলে যাত্রীরা বিদেশি সংস্থার দিকেই ঝুঁকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আন্তর্জাতিক বিমান বাজার আগামী কয়েক বছর আরও বড় হবে। কিন্তু সেই বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে এয়ার ইন্ডিয়াকে দ্রুত সংকট সামাল দিতে হবে। নইলে বিদেশি সংস্থাগুলো আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।